এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগণা,০৮ জুন : ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেই বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ফলতার স্বঘোষিত “পুষ্পা” তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান । তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির “ডায়মন্ড হারাবার মডেলের” অন্যতম স্তম্ভ একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খানকে পাকড়াও করতে তক্কেতক্কে ছিল রাজ্য পুলিশ । তার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, লুঠ-সহ একাধিক অভিযোগে মোট ৭টি এফ আই আর দায়ের হয়েছে ফলতা থানায় । কিন্তু খোঁজ মিলছিল না তার ৷ অবশেষে ভারত-নেপাল সীমান্তে তাকে পাকড়াও করতে সক্ষম হল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) । পরিবারকে সাথে নিয়ে নেপালে গিয়ে থিতু হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল জাহাঙ্গীর খান,এমনটাই এসটিএফ সূত্রের খবর ।
বিধানসভার ভোটে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর জাহাঙ্গীর খানকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেয় কলকাতা হাইকোর্ট । কারন পুলিশের গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি আদালতের কাছে যে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন তা বাতিল হয়ে যায় । তারপর থেকেই “পুষ্পা” জাহাঙ্গীর খানের ঘাড়ে ঝুলছিল গ্রেপ্তারির খাঁড়া । আদালত তার অগ্রিম জমানত বাতিল করতেই পুলিশ তাকে ধরতে তোড়জোড় শুরু করতেই বেপাত্তা হয়ে যায় জাহাঙ্গীর খান । তাকে ধরতে একাধিক দল গঠন করে রাজ্য পুলিশ ।
জানা গেছে,ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে জাহাঙ্গীর তার পরিবার নিয়ে নেপালে পালানোর ছক কষছে । সব আটঘাঁট বেঁধে সে নেপালে যাওয়ার জন্য ভারত-নেপাল সীমান্তে একটা ঘরভাড়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতে শুরু করে দিয়েছে । সুযোগ বুঝে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল তার । কিন্তু তার আগেই সাদা পোশাকের ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফের একটা বড়সড় দল সেখানে আচমকা হানা দেয় । বেগতিক বুঝে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে “পুষ্পা” জাহাঙ্গীর খান । কিন্তু পুলিশ তার পিছু ধাওয়া করে ধরে ফেলে ।
যদিও কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তেলুগু অ্যাকশন থ্রিলারটির পর নিজেকে স্থানীয় ‘পুষ্পা’ হিসেবে পরিচিতি দেওয়া জাহাঙ্গীর খান, হুমকি এবং নির্বাচনী জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের নজরে ছিলেন।
ভোটযন্ত্রে কারচুপির অভিযোগে ২১শে মে ফলতা কেন্দ্রে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান পুনঃনির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। বিজেপি রেকর্ড ব্যবধানে আসনটি জিতে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়িয়ে নেয়, আর জাহাঙ্গীর খান নিজের অফিস তালাবদ্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।
জাহাঙ্গীর খান হলেন মমতা ব্যানার্জীর সর্বশক্তিমান ভাইপো এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকে নির্বাচিত সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ফলতা তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই অবস্থিত।একসময় এখান থেকেই প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গীর খান, এবং গ্রামবাসীদের দাবি অনুযায়ী তিনি এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলেন ।
এই ঘটনাটি অজয় পাল শর্মার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যিনি ইউপি ক্যাডারের একজন আইপিএস অফিসার এবং ফলতায় বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ‘সিংঘম’ ভাবমূর্তির কারণেই মূলত বিষয়টি তার নজরে আসে। একজন এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি জাহাঙ্গীর খানের এলাকায় পৌঁছান এবং সম্ভাব্য গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দেন। জাহাঙ্গীরর বাড়িতে গিয়েও তিনি সতর্ক করে দিয়ে আসেন । পাল্টা জবাব দেন জাহাঙ্গীর এবং সিনেমার সেই চরিত্রের অনুকরণে নিজের নাম রাখেন পুষ্পা , যে চরিত্রটি জীবিকা নির্বাহের জন্য চন্দন কাঠ পাচার করত। এহেন “পুষ্পা” পুলিশের ভয়ে এতদিন লুকোচুরি খেলে অবশেষে ধরা পড়ে গেলেন ।।
