এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,০৭ জুন : মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি( টিসিএস) যৌন নির্যাতন,ব্লাকমেলিং ও ধর্মান্তরনের ঘটনার পর, এবার মহারাষ্ট্রের নাগপুর জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তর, পনবন্দি করা, মারধর এবং হত্যাচেষ্টার একটি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। কলকাতার দমদমের এক হিন্দু মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে কানহান পুলিশ “হুজুর মরিয়ম আম্মা সাহেবা” দরগার সঙ্গে যুক্ত ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।
এই মামলায় দরগাহের প্রধান খাদিম তাজি তানভীরউদ্দিন, তার ছেলে তাজি মুস্তাফিজুদ্দিন এবং সহযোগী তেজস খোবরাগাড়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে দুই মহিলাসহ আরও তিনজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই মহিলাকে দরগাহ চত্বরে পনবন্দি করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়েছিল। মহিলাটি প্রতিরোধ করলে তাঁর ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয় এবং তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের মতে, ভুক্তভোগী পশ্চিমবঙ্গের দমদমের বাসিন্দা এবং তিনি গত তিন-চার বছর ধরে নাগপুর গ্রামীণ এলাকার পারশিবনী-তে অবস্থিত বিখ্যাত আম্মা দরগায় অনুষ্ঠিত উরস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে যে,চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উরসের সময় তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল। মহিলাটি জানান যে, এপ্রিলের ১৮ ও ১৯ তারিখের রাতে তাঁকে দরগা চত্বরের একটি ঘরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয় এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁকে কালিমা পাঠ করতে এবং বোরকা পরতে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি প্রতিরোধ করলে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকার করায় তাঁকে ক্রিকেট ব্যাট, বেলন এবং চপ্পলের মতো জিনিস দিয়ে পেটানো হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্তরা তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে পালিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসতে সক্ষম হন। সেখানে পৌঁছে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং স্থানীয় পুলিশের কাছে ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহিলাটি অভিযোগ করেন যে, তিনি ক্রমাগত হয়রানি, হুমকি ও চাপের শিকার হয়েছিলেন।যেহেতু ঘটনাটি নাগপুরের কানহান থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের দমদম থানায় একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাটি নাগপুর গ্রামীণ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর কানহান পুলিশ কলকাতায় একটি দল পাঠিয়ে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করে এবং তদন্ত শুরু করে।
গত ২৯শে মে পুলিশ তাজি তানভীরউদ্দিন কালিমউদ্দিন (৫২), তাজি মুস্তাফিজুদ্দিন তানভীরউদ্দিন (২৪) এবং তেজস আনন্দ খোবরাগাড়েকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সুপার হর্ষ পোদ্দার জানিয়েছেন যে হত্যাচেষ্টা, অবৈধভাবে আটকে রাখা, মারধর এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগসহ বিভিন্ন গুরুতর ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকালে কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে, যেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে এবং পুলিশ পলাতক তিন অভিযুক্তের সন্ধান করছে।।
