এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),০৫ জুন : ত্রাণসামগ্রী পাচারের অভিযোগে চুড়ান্ত হেনস্থার দিন দুই পরেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও দলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি ও তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে কমিউনিটি হল নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল কাটোয়া-২ ব্লক । বাকি অভিযুক্তরা তৃণমূল নেতা দিগন্ত পাল, অঞ্চল সভাপতি বীরবল মণ্ডল, পঞ্চায়েতের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার । আজ শুক্রবার স্থানীয় বিজেপির নেতাদের নেতৃত্বে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। এনিয়ে কাটোয়া থানায় একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পলসোনা গ্রামের বাসিন্দা জনৈক নকুল ঘোষ ।
রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি ও তার দলবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পলসোনা গ্রামের ডাকের গাছতলা এলাকায় দুটি কমিউনিটি হল নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয় । কিন্তু কমিউনিটি হল নির্মাণ না করে আত্মসাৎ করে নিয়েছে রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি ও তার দলবল । সেই দুর্নীতি ঢাকতে মন্দির নির্মান করা হয়েছে বলে তারা রটিয়ে দেয় ।
অভিযোগপত্রে নকুল ঘোষ জানিয়েছেন,আমাদের গ্রামের ডাকের গাছ তলায় একটি কমিউনিটি হলের বিল্ডিং নির্মাণের জন্য পর পর দুটি অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬) একই স্কীমে আমাদের গ্রামের ঠিকাদার সংস্থা রুমা ঘোষ স্বামী অরন্যদেব ঘোষ সাং ও পোঃ পলসোনা, থানা – কাটোয়া, জেলা- পূর্ব বর্ধমান-এর কোম্পানি Radhamadhab Construction-কে বরাত দেওয়া হয়। কিন্তু উক্ত নির্মাণ সম্পূর্ণ দেখানো হইলেও ঐ স্থানে আজ পর্যন্ত কোন বিল্ডিং নির্মাণ হয় নাই। অথচ উক্ত বিল্ডিং নির্মাণের বরাতের আনুমানিক পাঁচ লক্ষ টাকা উক্ত কোম্পানিকে পঞ্চায়েতের তরফ হইতে প্রদান করা হয়। মহাশয় আমরা গ্রামবাসীগন খোঁজখবর লইয়া জানিতে পারি যে কাটোয়ার পূর্বতন বিধায়ক ১. রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী, ২. দিগন্ত কুমার পাল, ৩. বিশ্বনাথ সাহা, -এর নেতৃত্বে ৪. পলসোনা অঞ্চল প্রধান সাগরিকা মণ্ডল, ৫. ব্লক প্রেসিডেন্ট পিন্টু মণ্ডল এবং উক্ত Radhamadhab Construction ঠিকাদার সংস্থা মালিক ৬. রুমা ঘোষ এবং তাহার স্বামী ৭. অরন্য দেব ঘোষ সরকারী টাকা আত্মসাৎ করে এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় । তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ’ করে জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারনা’র জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন ।
এদিকে পুরো ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে পলসোনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান সাবিত্রী মণ্ডল । দলীয় নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগের কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করে বলেছেন,’প্রথমে ঠাকুরঘর তৈরি হয়েছে, পরে সেই নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আরও যে অর্থ এসেছে, তা আটচালার কাজে ব্যবহার করা হয় । সরকারি অর্থেই এই কাজ হয়েছে।’
যদিও কাটোয়া ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সূর্যদেব ঘোষের অভিযোগ,’দুটি অর্থবর্ষে কমিউনিটি হলের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। অথচ সেখানে কোনো কমিউনিটি হলের অস্তিত্বই নেই। যে মন্দির রয়েছে, তা গ্রামবাসীদের টাকায় নির্মিত। তাহলে সরকারি প্রকল্পের অর্থ কোথায় গেল? তার জবাব দিতে হবে তৃণমূলের নেতাদের । এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম চলেছে। বিশেষ করে জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতা দিগন্ত পালের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ তছরূপের ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে । তার দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এখন দেখার বিষয় তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জিসহ বাকিদের দুর্নীতির মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে কোমড়ে দড়ি পরায় কিনা ।।
