এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৪ জুন : বাংলাদেশের বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো এলাকায় এক হিন্দু বধূ ও তার দুই নাবালক সন্তানের লাশ উদ্ধার হল কর্মস্থল থেকে । বুধবার (৩ জুন ২০২৬) বিকেল চারটা নাগাদ শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি ঘর থেকে দেহগুলি উদ্ধার হয় । মৃত ইতি রানী (৩৪) জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)। তিনি বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
ডাকবাংলোর তত্ত্বাবধায়ক মহম্মদ লিটন জানিয়েছেন, ইতি রানী বুধবার বেলা ১১টার দিকে ডাকবাংলোতে কাজে আসেন। সঙ্গে তাঁর ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩) এবং বড় মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১১) ছিল। তাঁকে পরিচ্ছন্নতার কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তিনি (লিটন) জেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান। বেলা তিনটার দিকে তিনি ফিরে এসে দেখেন ইতি রানী ডাকবাংলোতে নেই। পরে খোঁজ করতে গিয়ে তৃতীয় তলার দুটি ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে তিনি ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের জানান। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়। বিকেল চারটার দিকে বরগুনা থানার পুলিশের একটি দল তৃতীয় তলার দুটি ঘর থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
লিটনের কথায়, ইতি রানী দুই মাস আগে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন।
পুলিশ জানায়, “খাকদোন”-৪ নম্বর ঘরের দরজা বন্ধ অবস্থায় ইতি রানী ও তাঁর ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসকে পৃথক দুটি খাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একই ভবনের “খাকদোন”-৩ নম্বর ঘর থেকে বড় মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো বরগুনার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেছেন, যে ঘরে ওই নারীর বড় মেয়ের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে দেহের পাশে ঘুমের ওষুধ ও একটি জলের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই নারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোয় এসেছিলেন। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে তিনি আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। কারণ, দুটি ঘরের দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে একজন মা সন্তানদের নিয়ে এ ধরনের স্থানে আসেন না। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমরা জেনেছি, তিনি মেয়েদের ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। ফলে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
মৃত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বিষয়টি শোনার পর ডাকবাংলোতে ছুটে আসেন। এসে তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন এবং বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি সুপারি বেচাকেনার ব্যবসা করেন। ঘটনাস্থলে এসে বিলাপ করতে করতে করতে দুলাল বলেন, ‘আমি সকালে আমতলীতে সুপারি কিনতে যাই। এ সময় স্ত্রীর হাতে বাজারের টাকা দিয়ে যাই। ইতি জানিয়েছিল আজ সে কাজে যাবে না। দুপুরে আমি ফিরে এসে দেখি বাড়িতে তালা দেওয়া। আশপাশে তার (ইতি) ও বাচ্চাদের খোঁজ পাচ্ছিলাম না। পরে ডাকবাংলাতে তাদের লাশ পাওয়ার খবর পাই।’ তিনি আরো বলেন একই সাথে দুটি ঘরই ভিতর থেকে বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি সন্দিহান, বিষয়টি তদন্ত পুর্বক প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।।
