এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেরালা,০৪ জুন : কেরালার পালাক্কাদ থেকে চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে যে, শরীরচর্চায় আগ্রহী কিছু ইসলামপন্থী পুথুনাগারামে একটি জিম খোলার পরিকল্পনা করছে। একটি জিম খোলাটা নিজে থেকে কোনো চাঞ্চল্যকর বিষয় নয়, কিন্তু এই উদ্যোগের নেপথ্যের ব্যক্তিরা এটিকে শরিয়া আইন-ভিত্তিক ব্যায়ামাগার হিসেবে পরিচালনা করার কথা বলায় বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, বিশেষ করে এমন একটি রাজ্যে যেখানে মুসলিম লীগের একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। জিমের মালিকের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুসারে, জিমটি বিগত ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তিনি জানিয়েছেন যে, প্রতিষ্ঠানটিকে এখন “ইসলাম-বান্ধব” ব্যানারের অধীনে ইসলামী আইন-ভিত্তিক একটি জিমে রূপান্তরিত করা হবে। যেখানে জিমের ভেতরে কোনো প্রকার গান বা সঙ্গীত বাজানো হবে না। নারী ও পুরুষরা একত্রে শরীরচর্চা করবেন না। পুরুষ ও নারী সদস্যদের জন্য আলাদা আলাদা সময় বরাদ্দ থাকবে। নারীদের ক্ষেত্রে হিজাবসহ ইসলামিক পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও এই জিমে যোগ দিতে পারবেন, যদি তাঁরা এখানকার নিয়মাবলি মেনে চলতে সম্মত হন।
জানা গেছে, জিমটি গত ১৫ বছর ধরে চালু ছিল এবং এখন এটিকে একটি ইসলাম-বান্ধব জিমে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। মালিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিবৃতিগুলো দিয়েছেন। তবে মালিক সম্পর্কে বেশি কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র শারীরিক ফিটনেস প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। কিছু বছর আগে এমন অভিযোগ উঠেছিল যে, কিছু নিষিদ্ধ ইসলামি সংগঠন জিমে অস্ত্র প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিল।
আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে নারীদের জন্য জনপরিসর ক্রমশ সীমিত করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা একই ধরনের সামাজিক প্রবণতারই প্রতিফলন। তাদের দাবি, এই সর্বশেষ ঘটনাটি এই সর্বশেষ ঘটনাটি কেরালায় ইসলামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দেয়। যদিও জিমে সাধারণত ব্যায়ামের জন্য বিশেষ পোশাক থাকে, সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে এই জিমে পর্দা ও হিজাব বাধ্যতামূলক হবে এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা সময়সূচি থাকবে। সমালোচকরা এই পদক্ষেপটিকে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে কেরালার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।।
