বিরাট সাফল্য পেলো ভারতের ভারতের চন্দ্রযান-২।ইসরোর বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান-২-এর রাডার ডেটা ব্যবহার করে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছের গর্তগুলোর নিচে সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ বরফের সন্ধান পেয়েছেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযান, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ফাউস্টিনি ক্রেটারের গভীরে, ইসরোর চন্দ্রযান-২-এর রাডার ১.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অঞ্চল চিহ্নিত করেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া মাটির নিচে চাপা পড়া বরফের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। এই সম্ভাবনাময় জলাধারটি সরাসরি ৪টি স্থায়ীভাবে ছায়াচ্ছন্ন ক্রেটারের নিচে অবস্থিত।
ভবিষ্যৎ অভিযানগুলোর জন্য এই ভূখণ্ডটি পানীয় জল, শ্বাসযোগ্য অক্সিজেন এবং রকেট জ্বালানি সরবরাহ করতে সক্ষম হবে । আর জলের সমস্যার সমাধান করতে পারলেই চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনে কোনো বাধা থাকবে না৷
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র বিজ্ঞানীরা ২০১৯ সালে উৎক্ষেপিত চন্দ্রযান-২ লুনার অরবিটারের রাডার ডেটা বিশ্লেষণ করে এই খুশির খবর দিয়েছেন।তাঁরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে চারটি স্থায়ীভাবে ছায়াচ্ছন্ন গর্তের নিচে ভূগর্ভে চাপা পড়া সম্ভাব্য জল-বরফের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন।একটি শক্তিশালী সংকেত এসেছে ফাউস্টিনি গর্তের ভেতরের ১.১ কিলোমিটার (০.৭ মাইল) এলাকা থেকে, যা সূর্যালোক এবং বিকিরণ থেকে সুরক্ষিত।
এই শনাক্তকরণে রাডার সংকেতের সাথে ভূ-পৃষ্ঠের এমন সব বৈশিষ্ট্যকে একত্রিত করা হয়েছে, যা ভূগর্ভে চাপা পড়া বরফের স্তরের ইঙ্গিত দেয়।
এই আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জল-বরফ ভবিষ্যতের চন্দ্র ঘাঁটিগুলিতে জল, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে — যা পৃথিবী থেকে সবকিছু পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে।উৎক্ষেপণের বহু বছর পরেও চন্দ্রযান-২-এর অরবিটারটি মূল্যবান বৈজ্ঞানিক তথ্য সরবরাহ করে চলেছে, যা চন্দ্র অন্বেষণে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরে ।।
