এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২৭ মে : আজ বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কে স্ত্রীর ফ্ল্যাটের চার তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে তিনি মারা গেছেন টালিগঞ্জের বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্ত। প্রথম দিকে পুলিশ এটা দুর্ঘটনা বলে মনে করলেও উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট অনুযায়ী তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে । যেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ হাতের লেখা মিলিয়ে দেখছে পুলিশ । বৃহস্পতিবার সকালে এসএসকেএম হাসপাতালে অনীকের ময়নাতদন্ত হবে।
প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তের প্রাক্তন স্ত্রী হলেন সন্ধি দত্ত। ২৮ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানোর পর এক বছর আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। জানা গেছে,আজ দুপুরে প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হিন্দুস্তান পার্কে স্ত্রীর ফ্ল্যাটে এসেছিলেন অনীক । তবে প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাননি। সেই সময় তিনি ফ্লাটেই ছিলেন । এতে চরম আহত হন অনীক । এরপর তিনি সোজা চারতলা আবাসনের ছাদে চলে যান৷ সেখান থেকেই ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে নিজের গভীর হতাশার কথা উল্লেখ করেন ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওপর থেকে নিচে কংক্রিটের মেঝেতে পড়ার কারণে তাঁর মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছিল এবং বুকের একাধিক পাঁজর ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা করা সম্ভব হয়নি । সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর গড়িয়াহাট থানার পুলিশ ও লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা অনীক দত্তের আত্মঘাতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে । পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি। এটি যে সম্পূর্ণভাবে অবসাদজনিত আত্মহত্যার ঘটনা, তা প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট।
প্রসঙ্গত,কট্টর বামপন্থী মানসিকতার মানুষ ছিলেন অনীক দত্ত। ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ সিনেমা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন । পর্দায় যিনি সমাজ ও রাজনীতির অসঙ্গতিকে চতুর ব্যঙ্গের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন । তার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন সিপিএমের নেতা-নেত্রীরা। অনীক দত্তের এই আকস্মিক মৃত্যুতে কেবল সিনেমাজগত নয়, রাজনৈতিক ও বিজ্ঞাপন জগতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।।
