এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২৩ মে : পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের এরুয়ার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান হাসমত সেখ এবং উপপ্রধান নীলকান্ত অধিকারীর বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজেত দুর্নীতি আর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ মহিলারা । আজ শনিবার এরুয়ার গ্রামের শতাধিক মহিলা এনিয়ে ভাতার থানায় এসে ওই দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন । তাদের অভিযোগ যে একশো দিনের কাজ প্রকল্পে উপভোক্তাদের নামে একাধিক জবকার্ড বের করে টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছে তৃণমূলের প্রধান ও উপপ্রধান । সেই সাথে তারা ২০২১ সালের বিধানসভার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর বিজেপি করার অপরাধে বহু পরিবারকে ঘরছাড়া করার করার অভিযোগ তুলেছেন ।
এদিন মহিলাদের পক্ষ থেকে সুমনা চক্রবর্তী থানায় একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন । তাতে তিনি অভিযোগ করেছে,গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে জানতে পারি যে আমার নামে এমজিএনআরইজিস দুটি জব কার্ড আছে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় একটি একাউন্টে টাকা ঢুকেছে । সেই টাকা নয় ছয় করা হয়েছে । আমাদের প্রতিবেশী ছায়া বাউরি, যুথিকা হালদার, দীপা মিদ্দা, রিয়া দাসরা মিলে ব্যাংকে গেলে তারাও জানতে পারে যে তাদের সাথেও একই ঘটনা ঘটেছে । শুধু তারাই নয়, গ্রামের অনেকের সাথেই একই ঘটনা ঘটেছে বলে পরে আস্তে আস্তে জানতে পারা যায় ।’
তিনি অভিযোগ করেছেন, ঘটনার কথা চাওড় হলে গতকাল রাতে নীলকান্ত অধিকারীর নেতৃত্বে একদল মধ্যপ যুবক হাতে রড,কাটারি,লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে চড়াও হয় । তারা আমাকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল। নীলকান্ত আমার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেয় যে উনার কথা বেশি জানাজানি করলে আমায় প্রাণে মেরে ফেলা হবে ।’ তিনি অভিযোগ পত্রে নীলকান্ত অধিকারী ছাড়া আরও ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারিনীর মধ্যে দীপা মির্ধা, আন্না দাসরা জানান, সম্প্রতি তাঁরা জানতে পারেন যে ২০২১ সালে যখন ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প চালু ছিল তখন তাঁদের জবকার্ডে প্রকল্পের মজুরির টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। কিন্তু তাদের পরিশ্রমের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে । ওই ঘটনা জানার পর পঞ্চায়েত প্রধান হাসমত সেখ এবং উপপ্রধান নীলকান্ত অধিকারীর কাছে মজুরির টাকার হিসাব চাইতে গেলে তাদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ তাদের।
পাশাপাশি ২০২১ সালে এরুয়ার গ্রামে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগও তোলা হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান হাসমত সেখ এবং উপপ্রধান নীলকান্ত অধিকারীর বিরুদ্ধে । রিয়া দাস নামে এক গৃহবধূর অভিযোগ, ‘তৃণমূলের অত্যাচারে আমাকে আমার এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল । কারন আমার স্বামী সোমনাথ দাস বিজেপি করেন । কেন এমন হবে ? আমরা এর ন্যায়বিচার চাই ।’ প্রৌঢ়া বৃদ্ধা আন্না দাসের অভিযোগ, ‘২০২১ সালে বাচ্ছা নাতিনাতনিদের নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকতে হয়েছে । শুধু তাইই নয়, আমাদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় ।’ একথা বলার সময় তিনি কেঁদে ফেলেন। যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে নীলকান্ত অধিকারীর মতামত জানতে তাঁকে ফোন করা হয়। কিন্তু মোবাইল ফোনের সুইচ অফ থাকায় মতামত জানা সম্ভব হয়নি ।।
