এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৫ মে : পশ্চিমবঙ্গে বিগত সরকারগুলির আমলে আদপেই কি আইনের শাসন ছিল এরাজ্যে ? তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে ভোটব্যাংকের রাজনীতির জন্য ভারতীয় আইনকে কি বারবার লঙ্ঘন করা হয়নি ? বেশ কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক অবক্ষয়ের কারনে এই সমস্ত প্রশ্নগুলি আজ উঠছে । ওঠাও স্বাভাবিক । প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সময়ে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আইনের শিথিলতার কারনে বেশ কিছু অবক্ষয় জেঁকে বসে আছে বঙ্গ সমাজে ৷ যেমন, আতসবাজিতে শব্দবিধি কঠোর ভাবে মানা হলেও ধর্মীয় স্থানগুলিতে মাইকের চোঙের দেদার ব্যবহার হত এতদিন । ধর্মীয় গানের উচ্চৈস্বরে নাজেহাল মানুষের প্রতিবাদ করার জো ছিল না । কারন রাজ্য সরকারের এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশিকা ছিল না । ফলে প্রতিবাদীদের জুটতো ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা । তেমনই,নির্বিচারে পশুহত্যা দেখেও পশুপ্রেমী সমাজকে এতদিন চুপ থাকতে হত । কারন, প্রতিবাদ করলেই রাজ্যের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের ভোটব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে ! বঙ্গ সমাজের এই দুই অবক্ষয়কে দূর করতে ‘প্রথম রাতেই বিড়াল মারা’র উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব হাতে নিয়েই বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী । প্রথমেই তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তকে সুরক্ষিত করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন । যেটা মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতায় এতদিন আটকে ছিল বলে অভিযোগ । পাশাপাশি শব্দ দূষণ ও নির্বিচারে পশু হত্যা বন্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের তারিফ কুড়াচ্ছে । কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার এই নির্দেশিকা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং সমাজের এর কি প্রভাব পড়বে, সেটা ভবিষ্যৎই বলবে ।
ধর্মীয় স্থানে শব্দ বিধি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ধর্মীয় স্থানে যথেচ্ছভাবে মাইকের চোঙ ব্যবহার । বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারদের এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী । ওই বৈঠকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে পশুবলি বন্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি থানার পুলিশ সরকারের এই নির্দেশিকা পালনের জন্য আসরে নেমে পড়েছে । জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ যে কোনও ধর্মীয় স্থানের বাইরে যেন শব্দ ছড়িয়ে না পড়ে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আগের নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতেও পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধর্মীয় স্থানগুলিতে নির্ধারিত শব্দ সীমা মেনে চলা হচ্ছে কিনা সেটাতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, বলে সূত্রের খবর। কারণ বহু মানুষের এই নিয়ে অভিযোগ আছে। যা জমাও পড়েছে বিভিন্ন থানায় ।
নির্বিচারে পশুহত্যা বন্ধে কঠোরতা
পাশাপাশি প্রকাশ্যে পশুহত্যা এবং নিয়মের বাইরে পশুবলি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, সেটা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অনুমোদিত জায়গা ছাড়া গবাদি পশুহত্যা করা যাবে না। বিশেষ করে গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো পশুর ক্ষেত্রে আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই। এমনকী বেআইনিভাবে গাড়িতে করে পশু পরিবহণও বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা সামনে এলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আগামী শনিবার ডায়মন্ডহারবার যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর ওখানে গিয়ে বৈঠক করবেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বলে জানা গিয়েছে। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, যত্রতত্র পশুবলি বা আইন বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটা যাতে মানা হয় তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পশুহত্যায় বর্তমান আইন কি ?
স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের তরফে নবান্ন থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শংসাপত্র ছাড়া কোনও গরু, বলদ, ষাঁড়, মোষ বা বাছুর হত্যা করা যাবে না। শুধুমাত্র পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে লিখিত সম্মতি দিলে সংশ্লিষ্ট পশুকে হত্যার উপযুক্ত বলে শংসাপত্র দেওয়া যেতে পারে। তবে তার জন্য পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে অথবা বার্ধক্য, আঘাত, শারিরীক বিকৃতি কিংবা দু’রারোগ্য ব্যাধির কারণে অক্ষম হয়ে পড়তে হবে। সেই সঙ্গে, শংসাপত্র পাওয়া পশুকে শুধুমাত্র পৌর কসাইখানা বা প্রশাসন অনুমোদিত নির্দিষ্ট ক’সাইখানাতেই ব/লি দেওয়া যাবে। কোনওভাবেই প্রকাশ্য স্থানে পশুহত্যা করতে দেওয়া যাবে না।
আইন কার্যকর করার স্বার্থে প্রশাসনের প্রতিনিধি বা সরকারি পশু চিকিৎসক পশুহত্যা প্রাঙ্গন পরিদর্শনে গেলে তাকে বাধা দেওয়া যাবে না। আইন লঙ্ঘন করলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়াও বেআইনিভাবে গাড়িতে পশু পরিবহণের উপর নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।।
