এইদিন ওয়েবডেস্ক,উড়িষ্যা,০৯ মে : ভারত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) ওড়িশা উপকূলে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষার ফলে ভারত বিশ্বের সেই অল্পসংখ্যক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, যাদের কাছে মহাদেশ অতিক্রম করতে সক্ষম শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এই পরীক্ষার পর প্রতিরক্ষা মহলে অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। যদিও প্রতিবেদন অনুসারে, এই উৎক্ষেপণটি অগ্নি-৬ নয়, তবে এটি অবশ্যই একটি আইসিবিএম সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে ডিআরডিও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ঘোষণা করেনি, কিন্তু এই সাফল্য ভারতকে ‘অভিজাত দেশগুলোর ক্লাবে’ একটি স্থান করে দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত কেবল আমেরিকা, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার কাছেই ১২,০০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি ছিল। ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের কাছে সাবমেরিন-ভিত্তিক প্রযুক্তি রয়েছে। এখন ভারত এই সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্ব পর্যায়ে কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এত দীর্ঘ পাল্লার ফলে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই ভারতের আঘাত হানার ক্ষমতার আওতায় চলে আসবে ।
সম্প্রতি, ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান সমীর ভি. কামাত ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকারের অনুমোদন পেলেই তিনি অগ্নি-৬ এর জন্য প্রস্তুত। একইভাবে, ভারতীয় জনতা পার্টিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘x’-এ অগ্নি-৬ এর আগমন নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়েছে। বিজেপি বলেছে : “১০,০০০+ কিলোমিটার পাল্লা এবং এমআইআরভি (মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রিএন্ট্রি ভেহিকেল) প্রযুক্তির মাধ্যমে অগ্নি-৬ ভারতের নিরাপত্তাকে দুর্ভেদ্য করে তুলবে।”
এই প্রযুক্তি ভারতকে পারমাণবিক হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা দেয়, যা শত্রু দেশগুলোর জন্য একটি ‘প্রতিরোধক’ হিসেবে কাজ করবে।
আইসিবিএম পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। ডিআরডিও এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) সফলভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন ওয়েপন’ পরীক্ষা করেছে। এটি একটি মডিউলার রেঞ্জ-এক্সটেনশন কিট যা একটি সাধারণ বোমা বা ওয়ারহেডকে একটি স্মার্ট অস্ত্রে রূপান্তরিত করে, যা নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কম খরচে পুরোনো অস্ত্রগুলোকে অত্যন্ত আধুনিক এবং মারাত্মক করে তুলতে পারবে।
ভারতের এই অগ্রগতি কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং এটি জটিল রকেট চালনা এবং দিকনির্দেশনা ব্যবস্থার উপর ভারতের আত্মনির্ভরশীলতা ও দখলকে তুলে ধরে। “শক্তিশাল ভারত, সুরক্ষিত ভারত” স্লোগানের মাধ্যমে ভারত এখন একটি আঞ্চলিক শক্তি থেকে বিশ্ব পরাশক্তি হওয়ার পথে দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
দেশ ক্ষেপণাস্ত্রের নাম পাল্লা (কিমি)
রাশিয়া আরএস-২৮ সারমাত / ল্যানার ১২,০০০+
চীন ডিএফ-৪১ (ডংফেং) ১২,০০০ – ১৫,০০০
আমেরিকা মিনিটম্যান ৩/ সেন্টিনেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
উত্তর কোরিয়া হোয়াসং সিরিজ ১০,০০০ – ১৫,০০০
পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আইসিবিএম প্রযুক্তি অর্জন করা দেশ সহজেই ‘শত্রুর’ পারমাণবিক হামলার জবাব দিতে পারে; এই বিবেচনায় আইসিবিএম’কে শক্তিশালী প্রতিরোধ অস্ত্র ধরা হয়। এই প্রযুক্তি একইসঙ্গে এটাও প্রমাণ করে যে দেশটি জটিল রকেট পরিচালনা ও তা সুনির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
শুক্রবার ভারত ওড়িশার ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে অত্যাধুনিক অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়ে তার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা শক্তি সম্পর্কে বিশ্বকে একটি বড় বার্তা দিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হলো এর এমআইআরভি (মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেড রি-এন্ট্রি ভেহিকেল) সিস্টেম, যা একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে। পরীক্ষার সময়, ক্ষেপণাস্ত্রটি একাধিক পেলোড নিয়ে উড়েছিল এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছিল।।
