এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,২৯ এপ্রিল : উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার তথা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে রোখা সম্ভব হল না । কারন ফলতা বিধানসভার ১৪৪ নম্বর বুথের ইভিএম-এ বিজেপির বোতামে সাদা টেপ লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে । সেই ভিডিও বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য এক্স-এ পোস্ট করেছেন ।
তিনি লিখেছেন,’ডায়মন্ড হারবারের ফলতা থেকে টিএমসি-র টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপরাধী জাহাঙ্গীর খানের পক্ষে কথা বলার সময় মমতা ব্যানার্জী এই বিষয়টিরই পক্ষ নিচ্ছিলেন।বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে টেপ ব্যবহার করে বিজেপি-কে ভোট দেওয়ার বিকল্পটি আটকে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ভোটাররা তাদের পছন্দের ভোট দিতে পারছেন না। এটাই তথাকথিত “ডায়মন্ড হারবার মডেল”, ঠিক সেই ছক যা মমতা ব্যানার্জীর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীকে লোকসভা আসনে জিততে সাহায্য করেছিল। ফলতার যেসব ক্ষতিগ্রস্ত বুথে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আমরা অবিলম্বে পুনঃভোটের দাবি জানাচ্ছি। এই ধরনের কয়েকটি বুথের বিবরণ, প্রমাণসহ, নিচে দেওয়া হলো:
ফলতা ১৪৪,পার্ট ১৭০,রুম নং ২ – হরিণডাঙ্গা হাই স্কুল। অন্যান্য বেশ কয়েকটি বুথের সাথে ১৮৯ নম্বর বুথটিও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’এদিকে ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা মনোজ কুমার সংশ্লিষ্ট বুথে পুনঃভোটের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে নির্বাচন কমিশন কঠোর নির্দেশ জারি করেছিল যে, কোনো ভোটকেন্দ্রে ইভিএম কারচুপির খবর পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশে ইভিএমে টেপ, আঠা বা সুগন্ধি লাগানোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
কিন্তু ইভিএম টেপ লাগানোর ঘটনাটি সেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই ঘটেছে, যেখানে জাহাঙ্গীর খান টিএমসি-র টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই জাহাঙ্গীর খানই সেই ব্যক্তি, যাঁর সমর্থকদের ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা একটি ভিডিওতে তিরস্কার করেছিলেন। এই বিতর্কে টিএমসি ধারাবাহিকভাবে জাহাঙ্গীর খানের পক্ষ নিয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন থেকে এই আইপিএস অফিসারকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছিল তারা । কিন্তু নির্বাচনের মধ্যে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি আদালত । ফলতা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী করেছে দেবাংশু পান্ডাকে । তিনি অভিযোগ করেছেন,’ফলতার বেশ কিছু বুথে ইভিএমের তিন ও চার নম্বর বোতামে সেলোটেপ সাঁটানো হয়েছে। তিন নম্বরে বিজেপি এবং চার নম্বরে সিপিএম প্রার্থীর নাম রয়েছে।।
