এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৯ এপ্রিল : বিশ্ব যখন বর্তমানে ইরান-মার্কিন সংঘাতে জর্জরিত, তখন চীন তাইওয়ান প্রণালীতে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেংহু দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি চীনা ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই অনুপ্রবেশের জবাবে তাইওয়ান তার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং চীনা কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছে। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে, অন্যদিকে তাইওয়ান তার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে অটল, যা দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
সোমবার গভীর রাতে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুসারে, পেংহু দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিমের জলসীমায় একটি চীনা ডেস্ট্রয়ার ও একটি ফ্রিগেট সন্দেহজনকভাবে চলাচল করছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে, তাইওয়ান নজরদারির জন্য অবিলম্বে তার নৌ জাহাজ এবং বিমান বাহিনীর বিমান পাঠিয়েছে। তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী চীনা জাহাজগুলোর প্রতিটি গতিবিধির ওপর ক্রমাগত নজর রাখছিল এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে তাদের প্রস্তুতিও প্রদর্শন করেছে। তবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও এই পাল্টা ব্যবস্থার প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি, কিন্তু প্রমাণ হিসেবে চীনা যুদ্ধজাহাজগুলোর আকাশ থেকে তোলা ছবি প্রকাশ করেছে।
চীনের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশের পেছনে একটি বৃহত্তর কৌশল রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে এবং গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপটিকে ভয় দেখানোর জন্য প্রায় প্রতিদিনই তার আকাশ ও সমুদ্র অঞ্চলে যুদ্ধবিমান এবং জাহাজ পাঠায়। তাইওয়ান সরকারের বারবার আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও, চীন তার সামরিক শক্তি প্রদর্শন বন্ধ করে না। তাইওয়ান সাধারণত প্রতিদিন চীনা বিমানের বিবরণ দেয়, কিন্তু যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবৃতি কেবল তখনই দেওয়া হয় যখন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয় বা বিমানবাহী রণতরী জড়িত থাকে।
এই বিবাদে চীনও আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেছে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তাইওয়ানের আশেপাশে তাদের সামরিক কার্যকলাপ “সম্পূর্ণরূপে ন্যায্য ও যথাযথ”। চীন এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য তাইপেই (তাইওয়ান) সরকারকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাইওয়ান দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছে যে, শুধুমাত্র দ্বীপের জনগণেরই এই দ্বীপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার এই অচলাবস্থায়, সর্বশেষ জাহাজ অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিশ্ব বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, চীন যদি তার সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করে, তবে আমেরিকাও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনার মতো। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-হামাসের পর, এশিয়ায় এই নতুন রণাঙ্গন উন্মোচনের সম্ভাবনা সমগ্র বিশ্বের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। পেংহু দ্বীপপুঞ্জের কাছে চীনা জাহাজের উপস্থিতি শুধু একটি সামরিক মহড়া নয়, বরং এটি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করার জন্য চীনের একটি প্রচেষ্টাও হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে এই এলাকায় সামরিক মোতায়েন বাড়ানোর পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।।

