এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৯ এপ্রিল : পুলিশ কর্মীদের জন্য ডাকযোগে ব্যালট বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ‘পুলিশ কর্মীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের জরুরি প্রয়োগ এবং ত্রুটির জন্য জবাবদিহিতা’র দাবি জানালো । এই মর্মে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক(ডিজিপি) এর কাছে একটা লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মঞ্চের রাজ্য কনভেনর ও দুর্গাপুরের প্রাথমিক শিক্ষক ভাস্কর ঘোষ ৷ আবেদনপত্রের প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছেও ।
আবেদনপত্রে বলা হয়েছে : রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মীদের জন্য ডাকযোগে ব্যালট বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের বিষয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ নথিভুক্ত করার জন্য আমরা এই চিঠি লিখছি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের ডাকযোগে ব্যালট পাননি। একইভাবে উদ্বেগজনক হলো সেইসব ঘটনা, যেখানে গোপনীয়তা ভঙ্গের সুপ্রতিষ্ঠিত আশঙ্কার কারণে কর্মীরা ডাকযোগে ব্যালট গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছেন।
এই ধরনের ব্যর্থতা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূলে আঘাত হানে এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত উর্দিধারী কর্মীদের একটি বৃহৎ অংশের ভোটাধিকারকে অস্বীকার করার শামিল। যেকোনো ধরনের ঘাটতি—তা প্রশাসনিক হোক বা পদ্ধতিগত—যা ভোটদানের সুযোগ বা গোপনীয়তাকে বিঘ্নিত করে, তা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য এবং কোনো অবস্থাতেই তা চলতে দেওয়া যায় না।
এই প্রেক্ষাপটে, আমরা আপনাকে ডাকযোগে ব্যালট সংক্রান্ত সমস্ত বিধিবদ্ধ বিধান এবং পদ্ধতিগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অবিলম্বে ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। যেকোনো ত্রুটির জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করতে হবে এবং অবিলম্বে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রত্যেক যোগ্য পুলিশ সদস্য অবাধ, সুষ্ঠু ও গোপনীয়ভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
আপনাকে আরও অনুরোধ করা হচ্ছে যে, সকল পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং অন্যান্য শাখা প্রধানদের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত ও সময়সীমা-বদ্ধ প্রতিবেদন তলব করুন, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে:
১. নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত মোট পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ।
২. ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বেছে নেওয়া সদস্যদের সংখ্যা ও শতাংশ ।
৩. ডাকযোগে ভোটের মাধ্যমে সফলভাবে ভোট দিয়েছেন এমন সদস্যদের সংখ্যা ও শতাংশ এবং
৪. ডাকযোগে ভোটপত্র গ্রহণ না করা বা ব্যবহার না করার সুনির্দিষ্ট কারণ, গৃহীত বাস্তব প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত দায়বদ্ধতা।
এই পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। যেকোনো অব্যাহত নিষ্ক্রিয়তা বা প্রতিক্রিয়ার অপর্যাপ্ততা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।
অনলাইনে পাঠানো ওই আবেদনপত্রের কপিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ভাস্কর ঘোষ লিখেছেন,’পুলিশের সাথীরা বিগত নির্বাচনগুলোতে নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে পারতেন না। পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের (আদপে কাটমানি সিণ্ডিকেট বোর্ড) শান্তনুরা (আজ যার বাড়িতে ED রেড করেছে) ভোটের আগে পুলিশের সাথীদের ভোটার I-card জমা নিয়ে নিতে জোর করে। এবং ওদের সব পোস্টাল ব্যালট নিজেরা তুলে নিয়ে ছাপ্পা দিয়ে জমা করতো।এবার আমরা প্রতিবাদ করার পর সেই সাহস আর পায়নি। কিন্তু পুলিশের লোকজন কর্মস্থল থেকে নিজের বাড়ির এলাকায় পোস্টাল ভোট দিতে যাবে তার জন্য ছুটি পায়।এবার ছুটি দিচ্ছে না বিভিন্ন জেলা।বহু জেলার SP বদল করেও কিন্তু কমিশন প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করতে পারেনি।পারবেও না যতক্ষণ পর্যন্ত না I-PAC কে বোতলবন্দী করতে পারছে।সংগ্ৰামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপ ও কড়া পদক্ষেপ নেবার অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হলো।’।
