গতকাল লন্ডনে ফের কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী ও উগ্র বামপন্থীদের সেই একই দল রাস্তায় নেমেছে ! বিষয়বস্ত গাজা সংঘাত । ‘শত শত ইসলাম ও বাম উগ্রপন্থী বিক্ষোভকারীরা’ দাবি করছে যে ইসরায়েল যেন অবিলম্বে তাদের কারাগার থেকে সকল ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীকে মুক্তি দেয়। এরা ‘বন্দী’ নয়, এরা হামাস, ইসলামিক জিহাদ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী, যারা ৭ই অক্টোবরের গণহত্যা চালিয়েছিল—নিরস্ত্র নারী, এমনকি শিশুদের পর্যন্ত ধর্ষণ করেছিল। অগ্নিসংযোগ করেছিল এবং হত্যা করেছিল। সন্ত্রাসীদের সমর্থনে রাস্তায় নামা মানেই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা ! যেটা ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে করে যাচ্ছে বামপন্থীরা । ব্রিটেনের বামপন্থী শাসকের ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির দীর্ঘদিন ধরেই সুযোগ নিয়ে আসছে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীরা । তারা বামপন্থীদের পূর্ণ সহযোগীতাও পাচ্ছে । আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আজ থেকে ২১ বছর আগে ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে একটা বড়সড় নাশকতা চালায় পাকিস্তানি বংশভূত সন্ত্রাসবাদীরা । যাতে ৫২ জনের মৃত্যু ও ৭৭০ জনেরও বেশি আহত হয় ।
৭/৭ লন্ডন হত্যাকাণ্ড
ব্রিটেনের সবচেয়ে মারাত্মক এই হামলার পেছনে ছিল পাকিস্তানের গভীর যোগসূত্র । ২০০৫ সালের ৭ জুলাই, চারজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী লন্ডনের সকালের ব্যস্ততম সময়কে নরকে পরিণত করেছিল। তিনটি আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন এবং একটি দোতলা বাসে সমন্বিত হামলায় ৫২ জন নিরীহ মানুষ নিহত এবং ৭৭০ জনেরও বেশি আহত হন।আত্মঘাতী হামলা চালানো সন্ত্রাসবাদীরা ছিল মহম্মদ সিদ্দিক খান (নেতা), শেহজাদ তানভীর ও হাসিব হুসেন । এই তিনজনই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক । এছাড়া জারমেইন লিন্ডসে নামে একজন বামপন্থী সন্ত্রাসবাদী তাদের সঙ্গে ছিল ।
এই চারজনের মধ্যে তিনজনেরই পাকিস্তানের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল। খান এবং তানভীর পাকিস্তান একাধিকবার ভ্রমণ করেছিল, যার মধ্যে ২০০৪ সালের শেষভাগ থেকে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ছয় সপ্তাহের সফরও ছিল।
ধারণা করা হয়, সেই শেষ সফরের সময় তারা পাকিস্তানের মাটিতে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং সেখানেই তাদের “শাহাদাত”-এর ভিডিও রেকর্ড করেছিল । মহম্মদ সিদ্দিক খান ২০০১ এবং ২০০৩ সালের প্রথম দিকেই পাকিস্তানে জিহাদি প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছিল ।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটির প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছে যে, এই পাকিস্তানি সংযোগগুলোই সেলটির উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হওয়া, প্রশিক্ষণ এবং অভিযানিক সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি ছিল। ৭/৭-এর হামলা সম্পূর্ণরূপে “অভ্যন্তরীণ” ছিল না। পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বৈদেশিক সংযোগ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং সহায়তা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছিল।
ব্রিটিশ ভূখণ্ডে সংঘটিত এটি অন্যতম মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আজও পরিচিত। যদিও হামলাকারীরা ব্রিটেনে বাস করত, কিন্তু যে পথ দিয়ে তাদের অস্ত্রসজ্জিত ও প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা সরাসরি পাকিস্তানের দিকেই চলে গিয়েছিল । এভাবেই সন্ত্রাসবাদকে কার্যে শিল্পে পরিনত করা পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে বিশ্বকে একের পর কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী উপহার দিয়েছে । যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হল ভারত ।।

