এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৮ এপ্রিল : আজ শনিবার সকালেই একটা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তার অভিযোগ যে ‘ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদের ভয় দেখাতে/প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে’ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের জাল প্রেস পরিচয়পত্র দিচ্ছে আইপ্যাক। তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ট্যাগও করেন৷ আর এরপরেই ভোটের খবর সংগ্রহের অনুমদিপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের নিয়ে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করল কমিশন । ভোটগ্রহণের দিনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের অনুমতিপত্র দেওয়ার একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন । যেখানে একাধিক স্তরের যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। কমিশন জোর দিয়ে বলেছে যে, শুধুমাত্র যাচাইকৃত ও অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীরাই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং অনুমতিপত্রের অপব্যবহার ও ভোটকক্ষের ভেতরে ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির নির্বাচন ভবন থেকে উপ-পরিচালক পি. পবনের স্বাক্ষরিত একটি প্রেস নোটে ৮ দফা বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে । “ভোটগ্রহণের দিনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের অনুমতিপত্র প্রদান” সংক্রান্ত ওই ৮ দফা বিধিনিষেধে বলা হয়েছে :
১. ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) পুনরায় জানাচ্ছে যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংবাদ সংগ্রহের জন্য ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশ, ১৯৬১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ৩২ নং বিধির বিধান অনুসারে প্রিসাইডিং অফিসারদের দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
২. তদনুসারে, প্রতিটি সাধারণ, উপ বা দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ঘোষণার পর, গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে এই ধরনের প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র প্রদানের অনুরোধ গ্রহণ ও প্রেরণের জন্য নির্দিষ্ট পৃষ্ঠপোষক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ জারি করা হয়। এই পৃষ্ঠপোষক কর্তৃপক্ষগুলির মধ্যে রয়েছে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এবং রাজ্য তথ্য ও জনসংযোগ অধিদপ্তরের (ডিআইপিআর) মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও)।
৩. পিআইবি (PIB) কর্তৃক স্বীকৃত গণমাধ্যম কর্মীদের ক্ষেত্রে, কর্তৃপক্ষ পত্র (Authority Letters) পিআইবি-কে প্রদান করা হয়, যা এই ধরনের পত্র জারি করার আগে নিজস্ব পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে। পিআইবি পরবর্তীতে অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীদের তালিকা ইসিআই (ECI)-এর কাছে জমা দেয়, যা এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
৪. রাজ্য ডিআইপিআর (State DIPR)-এর মাধ্যমে আবেদনকারী গণমাধ্যম কর্মীদের ক্ষেত্রে, আবেদনপত্রগুলি প্রথমে রাজ্য ডিআইপিআর দ্বারা যাচাই করা হয়, যা তার সুপারিশগুলি সংশ্লিষ্ট সিইও (CEO)-এর কাছে পাঠায়। সিইও/ডিআইপিআর প্রত্যয়ন করেন যে তালিকাটি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে, আবেদনকারীরা প্রকৃত গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং তারা ইসিআই নির্দেশিকায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেন।
৫. সুপারিশকৃত গণমাধ্যম কর্মীদের সমন্বিত তালিকা এরপর সিইও কর্তৃক অনুমোদনের জন্য কমিশনের কাছে পাঠানো হয়। সিইও/ডিইও (CEO/DEO) বা একজন অনুমোদিত কর্মকর্তার দ্বারা যথাযথ প্রমাণীকরণের পরেই কর্তৃপক্ষ পত্রটি জারি করা হয়। কমিশন বাধ্যতামূলক করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় সত্যতা এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য কোনো ফ্যাক্সিমিলি এবং/অথবা রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করা যাবে না।
৬. কর্তৃপক্ষ পত্রের যেকোনো ধরনের অপব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ভোটের গোপনীয়তা ভঙ্গের আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা/ভিডিও করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
৭. কমিশন পুনর্ব্যক্ত করছে যে, এই সুসংগঠিত এবং বহুস্তরীয় যাচাই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো, শুধুমাত্র যথাযথভাবে যাচাইকৃত ও অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীদেরই ভোটকেন্দ্র এবং গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া, যার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল পরিচালনা বজায় রাখা হয়।
৮. পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, ভোটগ্রহণের দিনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীদেরও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁরা পোস্টাল ভোটিং সেন্টারে (পিভিসি) পোস্টাল ব্যালট সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।।
