এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৮ এপ্রিল : রাজ্যের বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী ভাড়াটে বেসরকারি সংস্থা আইপ্যাক (IPAC)-এর বিরুদ্ধে একটা গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তার অভিযোগ যে ‘ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদের ভয় দেখাতে/প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে’ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের জাল প্রেস পরিচয়পত্র দিচ্ছে আইপ্যাক। বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ‘অবিলম্বে দৃষ্টি আকর্ষণ’ করেছেন ৷
পশ্চিমবঙ্গের সিইও-কে ট্যাগ করে শুভেন্দু অধিকারী এক্স-এ লিখেছেন,’আমি নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, তৃণমূল কংগ্রেস দল তাদের ‘রাজনৈতিক পরামর্শদাতা’/’অর্থ পাচারকারী’ সংস্থার সহযোগিতায় একটি গুরুতর ষড়যন্ত্র করছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা এবং পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের সততাকে ক্ষুণ্ণ করা।’
তিনি অভিযোগ করেছেন,’বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন অনুসারে, আইপ্যাক (IPAC) পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের জাল প্রেস পরিচয়পত্র দিচ্ছে। এই ব্যক্তিরা পেশায় সাংবাদিক নন, কিন্তু ভোটকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্রসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অবাধ প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য তাদের গণমাধ্যমের সদস্য হিসেবে ছদ্মবেশে রাখা হচ্ছে।এই “ছদ্ম-সাংবাদিকদের” গণমাধ্যমের সুরক্ষার আড়ালে স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ কার্যকলাপ চালানোর জন্য কৌশলগতভাবে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রেসের পরিচয় দিয়ে, এই কর্মীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সন্দেহ এড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদের ভয় দেখাতে/প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।’
তিনি লিখেছেন,’প্রেস কার্ডের বিশেষাধিকারের অপব্যবহারের মাধ্যমে টিএমসি-র এটিও একটি চিরাচরিত কৌশল, যা এমন গতিশীলতা ও সুযোগ-সুবিধা দেয় যা সাধারণ দলীয় কর্মীদের নেই।’
নির্বাচন কমিশনের কাছে শুভেন্দু অধিকারী অনুরোধ করেছেন,’এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি যেন তারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গত কয়েক মাসের মধ্যে জারি করা সমস্ত নতুন প্রেস পরিচয়পত্র এবং স্বীকৃতিপত্রের কঠোর যাচাই-বাছাই করে। এছাড়াও, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা এমন কোনো ব্যক্তির নতুন পরিচয়পত্র পর্যবেক্ষণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে, যিনি নিজেকে সাংবাদিক বলে দাবি করছেন কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার কোনো বৈধ কাজের অভিজ্ঞতা নেই।’
পরিশেষে তিনি লিখেছেন,’সর্বশেষে, এটি নিশ্চিত করতে হবে যে শুধুমাত্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরাই যেন তাদের পরিচয়পত্রের দ্বিতীয়বার যাচাই-বাছাইয়ের পর ভোটকেন্দ্রের কাছে যাওয়ার অনুমতি পান।’
যদিও বিরোধী দলনেতার এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল ও আইপ্যাকের তরফ থেকে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি ।।
