এইদিন ওয়েবডেস্ক,শিলিগুড়ি,২৯ মার্চ : শিলিগুড়ি শহরের কুলিপাড়ার বাসিন্দা এক দশম শ্রেণির ছাত্রীর (১৬) মৃত্যুকাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার হল অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক আমির আলি । ৪৫ বছর বয়স্ক আমির আলির বাড়ি কুলিপাড়ার পার্শ্ববর্তী গুরুংবস্তি এলাকায় । বাড়িতে তার স্ত্রী ও ২ সন্তান রয়েছে ।সোমবার কিশোরীর নিজের বাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর চম্পট দেয় অভিযুক্ত৷ তারপর থেকে তার গ্রেপ্তারি ও কঠিন শাস্তির দাবিতে টানা ধর্ণায় বসেছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ । অবশেষে শনিবার গভীর রাতে ভিন জেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । এদিকে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন দার্জিলিং-এর বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত ।
মৃতা কিশোরী গুরুংবস্তিতে আমির আলির বাড়িতে টিউশন পড়তে যেত । অভিযোগ যে সেই সুত্রে সে মেয়েটিকে সে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিল এবং মেয়েটি বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। আর সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে কিশোরী আত্মঘাতী হয় বলে অভিযোগ । মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ওই গৃহশিক্ষকই তাঁদের মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে।
সোমবার মেয়েটির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হলে ক্ষিপ্ত জনতা অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের বাড়িতেফ ভাঙচুর চালায় । তার আগেই চম্পট দেয় অভিযুক্ত । তারপর থেকেই উত্তপ্ত শিলিগুড়ি । অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি ও কঠিন শাস্তির বিক্ষোভ ও মোমবাতি মিছিল হয় । বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করে ধর্ণায় বসেন । পাশাপাশি তিনি আগামী ৩০ মার্চ শিলিগুড়ি বন্ধেরও ডাক দেন । যদিও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় আজ রবিবার সকালে সাংসদ রাজু বিস্ত একটি ভিডিও বার্তায় তাকে বনধ ও ধর্না প্রত্যাহার করে নিতে অনুরোধ করেন ।
অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের খবর আসার আগে আজ রবিবার শঙ্কর ঘোষ কয়েকটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন৷ তার প্রশ্ন হল : “তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ আছে বলেই কি আমির আলি গ্রেপ্তার হচ্ছে না ? তৃণমূলের তোষামোদ রাজনীতির কারনে আমির আলির বিরুদ্ধে অনেক হিন্দু মেয়ের সর্বনাশ করা সত্ত্বেও কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না ? নাকি পুলিশ প্রশাসন আমাদের মেয়র সাহেবের মত অদক্ষ বলে গ্রেপ্তার হচ্ছে না ?” তিনি আরও বলেছেন,”এরাজ্যে গরীব মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়া দুর্ভেদ্য হয়ে গেছে ।”
প্রসঙ্গত,সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয় যে অভিযুক্ত আমির আলির ভাই সমীর আলি দার্জিলিঙ জেলা তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সদস্য । এমনকি বলা হয় যে সেই সুবাদে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব ও ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতাও আছে৷ যদিও আজ গৌতম দেব বলেছেন, ‘এই ঘটনাকে নিয়ে যেভাবে জলঘোলা করার চেষ্টা করা হয়েছে,বিদ্বেষের সৃষ্টি করা হয়েছে, এই ঘটনায় তৃণমূলকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে,এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার জবাব ২৩ তারিখে মানুষ ইভিএম-এ দেবে । এটা আমি বিজেপি প্রার্থীকে সতর্ক করতে চাই ।’ তিনি শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষের উদ্দেশ্যে বলেন,’আপনি প্রচারে যে ভাষা প্রয়োগ করছেন তা শিলিগুড়ির মানুষ মেনে নেবে না৷ এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ।’।
