এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৯ মার্চ : প্রকাশ্য মঞ্চে “অলচিকি লিপি” কে “অলচিকি ভাষা” বলে সম্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি । তখন মঞ্চে থাকা কেউ তার ভুল সংশোধন করে দিতে যান৷ কিন্তু মমতা ওই ব্যক্তিকে কার্যত অপমান করে সরিয়ে দেন । মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ তিনি মমতার ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বলেছেন, “আদিবাসীদের ডেকে এনে অপমান করা, আর প্রশাসনকে ঢাল বানিয়ে দম্ভ দেখানো, নিজের ভুল সংশোধনের ন্যূনতম শিক্ষা নেই। ভুল স্বীকার করার মানসিকতা নেই। শুধু অহংকার, নাটক আর লোক দেখানো আদিবাসী সম্মান। আদিবাসী সমাজকে এভাবে অপমান করা শুধুই লজ্জার নয়, এটা সভ্য সমাজের জন্যে কলঙ্ক। ছিঃ মাননীয়া ছিঃ!”
শনিবার রানীগঞ্জ, রঘুনাথপুর এবং কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে পুরুলিয়ার কাশীপুরে একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেন মমতা । তারই ভিডিও ক্লিপটি এক্স-এ শেয়ার করেছেন শুভেন্দু । ওই ক্লিপে মমতাকে বলতে শোনা যায়,”আমার আদিবাসী ভাই নির্মল টুডু এত সুন্দর করে অলচিকি ভাষায় তার কথা বলে গেলেন….অলচিকি ভাষাটা একটু শক্ত আছে । আমি বুঝি,কিন্তু সবটা হয়তো বুঝতে পারিনা, অনেকটাই বুঝি । অলচিকি ভাষাতে তো এখন অবিধান বেড়িয়ে গেছে৷ আপনারা জানেন একাডেমি থেকে শুরু করে….।” সেই সময় কেউ ডান পাশ থেকে এসে কিছু বলার চেষ্টা করেন । কিন্তু মমতা কার্যত লাফিয়ে ডান দিকে সরে গিয়ে তাকে বলেন,”কথা বলবেন না আমি যখন বলবো । আমি জানি, আপনি বসুন…অলচিকি লিপি ।”
প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,”প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করে আদিবাসী সমাজের মানুষদের ডেকে এনে, তাদের সামনেই মাননীয়া আপনি অলচিকি লিপির অপমান করে গেলেন এটা সত্যিই ঘৃণ্য ও নিন্দনীয়। “অলচিকি লিপি”-কে “অলচিকি ভাষা” বলে নির্লজ্জভাবে ভুল তথ্য বলে গেলেন। অলচিকি হলো সাঁওতালি ভাষা লেখার জন্যে ব্যবহৃত প্রাতিষ্ঠানিক লিপি, যা ১৯২৫ সালে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু উদ্ভাবন করেন। আর যখন একজন ব্যক্তি সাহস করে সঠিক তথ্য দিয়ে ভুল সংশোধন করতে এগিয়ে এলেন তখন তাকেই ধমক দিয়ে বসিয়ে দিলেন!মানে কী? আপনার ভুল ধরলেই অপরাধ? আপনি ভুল বলবেন, আর সবাই মাথা নিচু করে শুনবে?হিন্দু ধর্মের পুজোর মন্ত্র ভুল, মনীষীদের বাণী ভুল, মতুয়া ধর্মের ঠাকুরের নাম বিকৃত করা থেকে শুরু করে গতকাল রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আদিবাসীদের ডেকে এনে অপমান করা, আর প্রশাসনকে ঢাল বানিয়ে দম্ভ দেখানো, নিজের ভুল সংশোধনের ন্যূনতম শিক্ষা নেই। ভুল স্বীকার করার মানসিকতা নেই। শুধু অহংকার, নাটক আর লোক দেখানো আদিবাসী সম্মান।”
তিনি লিখেছেন,”আদিবাসী সমাজকে এভাবে অপমান করা শুধুই লজ্জার নয়, এটা সভ্য সমাজের জন্যে কলঙ্ক। ছিঃ মাননীয়া ছিঃ! যে বিষয়ে কিছুই জানেন না, সেই বিষয়ে এত ভুলভাল কথা বলে মানুষকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিলো? আদিবাসীরা আর চুপ থাকবে না।অপমানের জবাব এবার ভোটে দেবে। বাংলা পরিবর্তন চাইছে, আপনার থেকে মুক্তি হলো সমস্ত সমাজের কাছে মুক্তির পথ।” পাশাপাশি তিনি “রেসপেক্ট ট্রাইব্যাল কমিউনিটি” হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছেন ।।
Author : Eidin Desk.
