এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৩ মার্চ : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ টাকা এখনও পাননি রাজ্য সরকারি কর্মীরা। তার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। রাজ্যের সমস্ত অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধর্মঘট পালন পালন করা হচ্ছে । রাজ্যের অনান্য জেলার পাশাপাশি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ মালদা শাখার পক্ষ থেকে ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে । বকেয়া ডিএ-সহ একাধিক দাবীতে আজ কাজে যোগ না দিয়ে মালদা জেলা শিক্ষা দপ্তরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা । দপ্তরের সামনে পিকেটিং, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মালদার সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক হিল্লোল পাল ।
হিল্লোল পাল বলেন,’রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে বঞ্চনা করছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করে চলেছে।’ তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে ২৫ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানান ।
যদিও মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মীকে সাধারণ ছুটি দেওয়া হবে না। যিনি অনুপস্থিত থাকবেন তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে। উল্লেখ্য,’ডাইস নন’-এর অর্থ ওই দিনের বেতন কাটা যাওয়া। সেক্ষেত্রে অবশ্য বেশ কিছু ব্যাতিক্রম রয়েছে। কোনও কর্মীর গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। নিজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে।
কিন্তু রাজ্য সরকারের এই নির্দেশের পরেও ডিএ ‘বঞ্চিত’ সরকারি কর্মীরা আন্দোলনে নেমে পড়েছেন । এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ধর্মঘটের সমর্থনে সারা মালদা শহর পরিক্রমা শেষে রাজ হোটেল মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন অরুণ কুমার প্রসাদ। সভায় বক্তব্য রাখেন আদিত্য নারায়ণ মুখার্জী ,পল্টু মিশ্র ,হিল্লোল পাল ও মানস দত্ত। সভায় শুক্রবার ধর্মঘট সর্বাত্মক করার আহ্বান জানানো হয় ।।
