এইদিন ওয়েবডেস্ক,তিরুবনন্তপুরম,১২ মার্চ : মহাকুম্ভমেলার সময় ভাইরাল হওয়া সুন্দরী মোনালিসা ভোঁসলের সাথে তার ফেসবুক প্রেমিক ফরমান খানের বিয়ের খবর এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ৷ তারা বুধবার কেরালার তিরুবনন্তপুরের একটা মন্দিরে বিয়ে করার পর থেকেই এই ঘটনাকে “লাভ জিহাদ” হিসাবে অবিহিত করছেন৷ কেউ কেউ এই বিয়েকে “দ্য কেরালা স্টোরি ২” হিসাবেও বর্ণনা করছে৷ সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মোনালিসাকে হিন্দি সিনেমায় সুযোগ করে দেওয়া প্রযোজনাকারী পরিচালক সনোজ মিশ্রের নাম। তিনিও মনে করছেন যে মোনালিসা লাভ জিহাদের শিকার । তার চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সামনে এসেছে ।
সনোজ মিশ্র বলেছেন,’আমি সেই মেয়েটিকে গঙ্গার অবতার বলে মনে করতাম। তার সাথে একটি ছবির করার জন্য আমি ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। এমনকি আমি জেলেও গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন সে একজন মুসলিমের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে । এটি বিদ্রোহ নয়, এটি লাভ জিহাদ। যদিও তার বাবা জেলের বাইরে কাঁদছিলেন, তবুও মেয়েটি পাত্তা দেয়নি ।’ এদিকে মোনালিসার স্বামী ফরমান খানের বক্তব্য হল,’আমি প্রথমে রাজি হইনি,মোনালিসাই বিয়ের জন্য জোর করে । আর,আমি যদি লাভ জিহাদ করি তাহলে মুসলিম হয়েও মন্দিরে এসে বিয়ে করতাম না । আমি সব ধর্মকে শ্রদ্ধা করি ।’
তবে যে যাই বলুক না কেন কেরালার কথিত ধর্মনিরপেক্ষ সিপিএমের সরকার এই বিয়েকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মোনালিসার সাহসের প্রশংসা করেছে । পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে বামপন্থী সরকার । এই এই ঘটনাক্রমের মাঝে কেরালা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাজ্য পুলিশ প্রধানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে । VHP-র কেরালা শাখা অভিযোগ দায়ের করেছে যে, মোনালিসা একজন নাবালিকা। তার বিবাহটি ‘কমন ম্যারেজ অ্যাক্ট’-এর অধীনে নিবন্ধিত হয়েছিল।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ওই অভিযোগপত্রে লিখেছেন,মহাশয়। গতকাল, গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বরের বাসিন্দা মোনালিসা ভোঁসলে নামে এক মেয়ে এবং মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা ফরমান নামে এক যুবকের বিয়ে তিরুবনন্তপুরমের আরিমানুর মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে কেরালার শিক্ষামন্ত্রী শ্রী ভি শিবানকুট্টি, রাজ্যসভার সাংসদ শ্রী এ এ রহিম এবং রাজ্যের বিধায়ক এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক শ্রী গোবিন্দন মাস্টার এই বিয়েতে সভাপতিত্ব করেছেন।
একটি হিন্দু সংগঠনের প্রধান হিসেবে এই বিয়ে সম্পর্কে আমি বিভিন্ন মহল থেকে খবর নিয়েছি। আমার পরিচালিত তদন্ত এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে বোঝা গেছে যে মোনালিসা নামের এই কিশোরীর জন্ম ২১শে জানুয়ারী ২০০৯ সালে। গত বছর প্রকাশিত টাইমস নাউ এবং ইন্ডিয়া টুডের মতো জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, এই মেয়েটি তার ১৬তম জন্মদিন ২১শে জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে উদযাপন করেছে এবং এর ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।
আমি আমার সংগঠনের যুব শাখা বজরং দলের দক্ষিণ ক্ষেত্রীয় সমন্বয়কারী শ্রী জিজেশ প্যাটারির মাধ্যমে এই শিশুটির মাকে ফোন করেছিলাম এবং তাদের মধ্যে ফোনে কথোপকথন অনুসারে, শিশুটির মা বলেছেন যে তার মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি । পূর্বে উল্লিখিত তথ্য এবং মায়ের সাথে ফোনে কথোপকথনের ভিত্তিতে, এই বিয়ে একটি বাল্যবিবাহ এবং তাই এটি পকসো মামলার আওতাভুক্ত। অতএব, আমি অনুরোধ করছি যে আপনি এই মামলার যথাযথ তদন্ত করুন, বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন এবং পকসো আইনের অধীনে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করুন, যথাযথ তদন্ত করুন,মেয়েটির স্কুল ভর্তি রেজিস্টার খুঁজে বের করুন এবং যে থানার পুলিশ সদস্যরা বিবাহটি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে উপরোক্ত আইন অনুসারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিন, যারা ১৮ বছরের কম বয়সী একটি নাবালিকা মেয়ের বিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিলেন, যদিও তারা জেনেও এটি এমন ছিল।
আমি বিশ্বাস করি যে এই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ করার ষড়যন্ত্র করেছে এবং নথিপত্র জাল করেছে। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে উপলব্ধ প্রমাণ এবং নথিপত্র হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।।
