এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ মার্চ : শনিবার প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা থেকে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ(Deleted) দিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন । কিন্তু এই কাটছাঁটে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দক্ষতা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে ৷ অভিযোগ যে বাংলাদেশি চিহ্নিত করে দেওয়ার পরেও বহু চর্চিত মালদা জেলার রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান লাভলি খাতুন ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসাতের বিউটি মন্ডলের নাম দিব্যি থেকে গেছে চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৷ অথচ ভোটার তালিকায় “ডিলিটেড” হিসাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল বসুকে । প্রসেনজিৎ কুণ্ডু ও অনিল বসুর মতই জেলায় জেলায় এমন অসংখ্য নজির রয়েছে ।
প্রসঙ্গত, যে দুটি নাম নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় পরে গিয়েছিল,তারা হলেন লাভলি খাতুন ও বিউটি মন্ডল । দু’জনের বিরুদ্ধেই ভুয়া নথি বানিয়ে ভারতীয় নাগরিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে । লাভলি খাতুনকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ, হাজারও বিতর্ক হয় । অভিযোগ ছিল বাংলাদেশ থেকে এসে জাল ওবিসি সার্টিফিকেট বানিয়ে কেবল নাগরিক নয়, এদেশের নির্বাচনেও লড়েছিলেন তিনি।
মালদহের রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত প্রধানও ছিলেন লাভলি খাতুন । যার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত । দোষী সাব্যস্তও হলে পঞ্চায়েত সদস্যের পদ চলে যায় তার । তাঁর প্রধানের পর খারিজও হয়ে যায়। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে রসিদাবাদের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান লাভলি খাতুনের নাম চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনাও চলছিল । কিন্তু শনিবার চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল লাভলি খাতুনের নাম বাদ যায়নি ।
আর এক বহু চর্চিত নাম হলেন উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বারাসাতের বিউটি মন্ডল । অভিযোগ যে তিনি ভারতের নাগরিক হলেও এখনো বাংলাদেশের স্কুলে শিক্ষকতা করেন । তার বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র এখনো সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে । যদিও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েই তিনি বাংলাদেশে চলে যান । অথচ বাংলাদেশে বসেই থেকেই নির্বাচন কমিশনের কল্যাণে তিনি ভারতের ভোটার বনে গেছেন। চুড়ান্ত তালিকায় তাকে জায়গা করে দিয়েছে কমিশন।
এদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল বসু-র নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি আবার পুরসভার কনজারভেন্সির প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। শনিবার দুপুরে বি এল ও-দের হাতে ভোটার তালিকা পৌঁছানোর পর দেখা যায়, তাঁর নামের উপরে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে — “Deleted”। তবে কেন তাঁর নাম নতুন ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি ।
তবে শুধু তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল বসু নন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারনে নাম বাদ গেছে ভাতার,কালনা,কাটোয়া, পূর্বস্থলী প্রভৃতি এলাকার বহু মানুষের নাম । সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা হল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নাম তালিকায় ‘ডিলিটেড’ দেখানো হয়েছে। তিনি এএইআরও-এর দায়িত্বে ছিলেন। অথচ আলিপুরদুয়ার শহরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎবাবুর পরিবারের অন্য সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে । এছাড়া,পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-১ ব্লকের বহু বুথ লেভেল অফিসারদের(বিএলও) ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির কারনে রাখা হয়েছে ‘বিচারাধীন ভোটার’-এর তালিকায় । যেকারণে নির্বাচন কমিশনের কর্ম পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে ।।

