পশ্চিমবঙ্গকে সহ উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করে “গ্রেটার বাংলাদেশ” নামে নতুন একটা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীগুলি । তাদের এই স্বপ্নকে এতদিন ধরে হাওয়া দিয়ে এসেছে মার্কিন ডিপস্টেট । আর মার্কিন ডিপস্টেটের ঘুঁটি হিসাবে শুধু বাংলাদেশের উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীগুলিই নয়,দুর্ভাগ্যজনভাবে ভারতের কিছু রাজনৈতিক দলগুলিও কাজ করে আসছে । সেই সমস্ত দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে সন্দেহভাজন দল মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস । বিশেষ করে তৃণমূলের ছায়া গোষ্ঠী বলে পরিচিত “বাংলা পক্ষ”-এর কর্মকাণ্ড অন্তত টিএমসির মার্কিন ডিপস্টেট সম্পৃক্ততারই ইঙ্গিত দেয় । এছাড়াও, সম্প্রতি বাংলাদেশের ছাত্রনেতা ওসমান হাদি হত্যায় অমিত শাহকে জড়িয়ে মমতা ব্যানার্জি যে অযাচিত মন্তব্য করেছিলেন তাতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে ।
তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন নয়াদিল্লির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মার্কিন ডিপস্টেটের এই গভীর ষড়যন্ত্রকে বারবার ব্যর্থ করে দিয়েছে । মার্কিন ডিপস্টেটের সবচেয়ে বড় পরাজয় হল পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় বিজেপির আসা ও তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় । পাশাপাশি দেশকে সম্পূর্ণভাবে বিপদন্মুক্ত করার জন্য নরেন্দ্র মোদী আরও একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন । আর সেটা হল, বাংলাদেশের রংপুরের পলাশবাড়ী উপজেলায় বিশাল রামমন্দিরের নির্মান । এটি যে একটি নিছক মন্দির নয়,এর পিছনে নরেন্দ্র মোদীর সুগভীর পরিকল্পনা কাজ করছে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীগুলি । কিন্তু তারা নিরুপায় । কারন মোদী বাংলাদেশে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার নীতি গ্রহণ করেছেন ।
যেটা ডেমক্রেসি ভয়েস অফ বাংলাদেশের ফেসবুক পেজে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে । ওই পেজের একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, “মুসলমানদের ভোটে এমপি হয়ে হিন্দুদের সাথে মিলে আল্লাহর সাথে গাদ্দারি গাইবান্ধা জামাতি নেতা লেবু’র। জামাতের মাওলানা লেবু এমপির নেতৃত্বেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রংপুর ডিভিশনের হিন্দুদের বিশাল রাম মন্দির নির্মাণ হচ্ছে। যে মাটিতে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সেখানে শিরকের এই বিশাল মূর্তি তৈরি হচ্ছে আর এর পেছনে রয়েছে জামাত নামক এই ভণ্ড মডারেট গোষ্ঠী।”
কিন্তু ৯০ শতাংশের অধিক মুসলিম অধ্যুষিত রংপুর ডিভিশনকেই কেন রাম মন্দির নির্মানের জন্য বেছে নেওয়া হল ? এক্ষেত্রে প্যারিসের ঠিকানা দেওয়া মির জাহান নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিশ্লেষণ হল,”রংপুরের পলাশবাড়ী উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ২,৪৪,৭৯২; মুসলিম ২,২৯,০৩০, হিন্দু ১৫,৬৪০।মানে ৯২% মুসলিম অধ্যুষিত উপজেলায় ৬% জনসংখ্যার হিন্দুরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রামমূর্তি নির্মাণ করেছে!সেই মূর্তি উদ্বোধন করছে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনার এবং সেখানে আরো বিশাল মূর্তি এবং হিন্দুদের বড়বড় সমাবেশ হয়েছে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনারের উপস্থিতিতে!এই যে দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চিকেন নেক করিডোরের পাশে হিন্দুদের এই বিশাল দানব আকৃতির মূর্তি, গীতা সমাবেশ হচ্ছে সেগুলোর অর্থায়ন কারা করছে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের কি সেই খবর আছে?”
কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হিন্দুদের এতবড় কর্মকাণ্ড চলছে, আর বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের নজরে পড়েনি, এটা কিভাবে সম্ভব ? আসলে নরেন্দ্র মোদীর থিঙ্কট্যাঙ্কের সুগভীর পরিকল্পনার কাছে বাংলাদেশের শাসনযন্ত্রও এখন অসহায় । যে অসহায়তা ফুটে উঠেছে ডেমক্রেসি ভয়েস অফ বাংলাদেশের একটি পোস্টে ।
সেই পোস্টে লেখা হয়েছে,”বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে রংপুর, চট্টগ্রাম আর সাতক্ষীরা অঞ্চলে বসতি স্থাপনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর জন্য যতপ্রকার প্রশাসিন, আইনগত সহযোগিতা আছে বাংলাদেশে তাদের এজেন্টে দিচ্ছে। আর আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে ভারত ।খেয়াল করলে দেখবেন রংপুরে হঠাৎ করে হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এটা ৩০/৪০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সেখানে যদি তাদের সংখ্যা ৩০-৪০% ও যদি হয়, তাহলে তারা গ্যাঞ্জাম বাঁধাবে ভারতে ঢুকে যাওয়ার জন্য। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি, ৫ আগস্টের পরে চট্টগ্রামে ইস্কনি হিন্দুদের আন্দোলনে এক মহিলা হিন্দু নেতা দাবি করেছে, “রংপুর, চট্টগ্রামকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করতে হবে।”
সুতরাং বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য সাম্প্রদায়িক হিন্দুকে আর বাড়তে দেওয়া যাবে না।”
অন্য একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “রংপুর ডিভিশন দখল নিতে ইন্ডিয়ার এত প্রস্তুতি কেন৷ আপনারা আগস্ট বিপ্লবের পর দেখেছেন চিন্ময় প্রভু রংপুরে বিশাল বিশাল হিন্দু সমাবেশ করেছে৷ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে যে, সারাদেশে থেকে প্রচুর হিন্দু রংপুরে সেটেল করা হচ্ছে। রিসেন্ট একটা রামমন্দির তৈরি করা হয়েছে রংপুরের পলাশবাড়িতে৷ আপনি গুগুল ম্যাপে সার্চ করলে দেখবেন। মূর্তি টা ঐ যায়গায় বানানো হয়েছে৷ সে লাইন রংপুর ডিভিশন কে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করেছে। এটা স্পষ্ট যে এই রাম মূর্তি ধর্মীয় নয় বরঞ্চ এটা আগ্রাসী আক্রমণের ধর্মীয় আবরণ৷ এবার চিন্তা করুন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কোন প্রেক্ষাপটের দিকে যাচ্ছে। যেটাই হোক আগামীতে সংকট অনিবার্য।”
এবারে ভূরাজনীতিতে ভারতকে চেপে ধরার মার্কিন পরিকল্পনার প্রসঙ্গে আসা যাক। এক্ষেত্রে আমেরিকার দোসর চীন । মোহরা হিসাবে কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তানি, তুরস্ক এবং এমনকি সৌদি আরবকে । কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর কুটনীতির সামনে তাবড় তাবড় দেশের ষড়যন্ত্র আজ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। বুকে অসীম দেশপ্রেম থাকলে যে যেকোনো অসাধ্যসাধন করা যায় এটা প্রমান করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । ঠিক কতটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তিনি আভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুদের বারবার পরাস্ত করছেন, আসুন জেনে নেওয়া যাক ।
মার্কিন ডিপ স্টেট বনাম নরেন্দ্র মোদীর থিঙ্ক ট্যাঙ্ক
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু করে আমেরিকা চেয়েছিল এক ঢিলে তিন পাখি মারতে । প্রথমতঃ, ইরানের তেলভান্ডারের দখল নেওয়া । দ্বিতীয়তঃ, চীনের দাদাগিরি বন্ধ করা । এবং তৃতীয়তঃ, ভারতের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া । মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ। আমেরিকার হিসেব বুঝে নেওয়াও শেষ।
দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা তাদের টার্গেট ঠিক করে রাখে।খালি এক্সিকিউশন টা সময় মতো করে। মধ্যপ্রাচ্যকে বাগে আনার থেকেই তাদের পদ্ধতি শুরু হয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব দিকের দেশ গুলোকে ঘিরে। প্রথমে বাংলাদেশ । হাসিনাকে উৎখাত। মহম্মদ ইউনূসকে মসনদে বসানো ।কিন্তু কাজের কাজ হলো না। শুরু হোলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সহ উত্তর পূর্বদিকের রাজ্যগুলিকে টার্গেট করা। বাংলাদেশের জামাতিকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের সাথে সাথ মিলে জোর করে নির্বাচনে জিততে সাহায্য করা। যাতে উত্তর পূর্ব ভারতের নিয়ন্ত্রণটা ভারত সরকারের হাতে কিছুতেই না যায়।দরকারে চিকেন নেককে কেটে দেওয়া। কারণ একটাই । মায়নামারের দখল নিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতসহ একটা আমেরিকার ইয়েস ম্যান অঞ্চল তৈরি করা।যাতে দক্ষিণ এশিয়ার রাশ শুধু নয় মায়ানমারের অভ্যন্তরে থাকা রেয়ার আর্থ মিনারেল যা আগামী দিনের ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সেটাকে লুটে নেওয়া। কিন্তু কথায় আছে না ওস্তাদের মার শেষ রাতে।
পাশাপাশি নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । উনি বুঝে নিয়েছিলেন যে বাংলাকে না পেলে আগামী দিনে ভারত অত্যন্ত অসুরক্ষিত হয়ে পড়বে।কারণ মণিপুরের অস্থিরতার নেপথ্যে কে সেটা তো সবারই জানা হয়ে গেছে। কংগ্রেসকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন ডিপস্টেট মণিপুরের জাতিগত হিংসার আমদানি করে বলে অভিযোগ ওঠে । মণিপুর এখন অনেকটাই শান্ত । এরপর নরেন্দ্র মোদী বাংলায় জেতার জন্য যা যা করার অমিত শাকে দিয়ে করিয়ে নেন । বাংলা মুক্ত হোলো। আমেরিকা সঙ্গে সঙ্গে মোদীকে অভিনন্দন জানালো !
কিন্তু একটা অঙ্গরাজ্যের জয়লাভের জন্য মোদিকে অভিনন্দন কেন? আসলে অভিনন্দনের পিছনে একটা বার্তা যেনো এলো ‘যান খুব বেঁচে গেলেন ‘! বেঁচে যাওয়াই তো! পাকিস্তানের ISI এবং চিন যেভাবে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে তাদের শেকড় গাড়ছিল তাতে ভারতের প্রভুত ক্ষতি হোতো। ভারত চুপিচুপি কি করলো ভারত মায়ানমার সীমান্তে ড্রোন হামলা করে ISI যে ঘাঁটি তৈরী করেছিল সব উড়িয়ে দিলো। একদম তছনছ করে দিলো। মায়নামারের আরাকান আর্মির সাথে যোগযোগ করে তাদেরকে বলা হলো অনেক হয়েছে এবার মূলস্রোতে ফেরো। ওই দেশের মিলিটারি শাসকের সাথে সমন্বয় সাধন করানো ভারতের দায়িত্ব। আরাকান আর্মির ভারতের প্রতি কোথাও একটা টান অনুভব করে।কারণ তারা বলেই থাকে যে তারা যে অংশে আছে দরকারে ভারতের সাথে জুড়ে যাবে। তারা রাজি হওয়ার সাথে সাথে মায়নামারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং কে সব জানানো হলো। উনি তৎক্ষনাৎ রাজি হলেন এবং ভারতে হাজির হয়ে বিহারে উপস্থিত হলেন।
কারণ বিহারেই আরাকান আর্মি সাথে বৈঠক হবে। তাহলে মায়নামারের উপর ভারতের একটা অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ রইলো। অন্যদিকে টাকা পয়সা নিয়ে অজিত দোভাল গেলেন রাশিয়া। তালিবানের জন্য চুপিচুপি অস্ত্রের বাজার করে দিতে। রাশিয়াও রাজি ।তারা তালিবানের হাতে অত্যাধুনিক মিসাইল , এস- ৪০০ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র তুলে দিল। পাকিস্তানের যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটারও বারোটা বাজানোর জন্য ওই অস্ত্রই যথেষ্ট । সুতরাং এই দিকটার ব্যবস্থাও করেন মোদী ।খালি একটাই কাজ বাকি আছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।
হয়তো উনি ওনার পুরো কার্যকাল কাটাবেন না। সম্ভবত তার আগেই সরে দাঁড়াবেন ।কিন্তু যাবার আগে উনি শেখ হাসিনাকে তার সরকারে পুন প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবেন।যাতে ভারতের ভিতরে থাকা জীবানুগুলোকে যেভাবে নিস্তেজ করে দিয়েছেন,ঠিক সেইভাবে বাইরের জীবানুগুলোকেও নির্মুল হয় । তারপরেই নিশ্চিন্ত মনে অবসরে যাবেন ভারত মাতার এই সুযোগ্য সন্তান । বাইরের ও ভিতরের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জেতা এক নায়ক নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদীর রাজত্বকাল ইতিহাস বইয়ের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।।
