এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ জুন : কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম বিপর্যয়ে এখনো পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জন আহতের এস এস কে এম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বলে আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন । সেই সাথে মুখ্যমন্ত্রী পুর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,’বিপর্যয় মোকাবিলায় কোনো আধুনিক সরঞ্জাম রাখেননি ।’ এরপর তিনি বলেন, ‘বাংলার কেন এই সর্বনাশ করে গেলেন আপনারা ?’
তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম বিপর্যয় কান্ডে এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শম্ভুনাথ বেহরা ও তাঁর সংস্থা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই গুদাম নির্মানের অনুমোদনে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর ও প্লান অনুমোদিত এস্টিমেট দেখিয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’জানুয়ারী মাসের ১৭ তারিখ তারাতলার গোডাউন প্ল্যানে অনুমোদন দিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। তাতে সই রয়েছে তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদেরও সই রয়েছে। টাকা নিতে নিতে সিটি অফ জয় কলকাতাকে মৃত্যুপুরী বানিয়েছেন আপনারা । এটা আপনাদের পাপের ফল। একাধিক দুর্ঘটনা থেকে কোনও শিক্ষা নেননি।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার এবং লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । কাউকে ছাড়া হবে না ।’
কলকাতা পুরসভায় বিভিন্ন বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদনে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলেও বিধানসভায় দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। কালী নামের এক ব্যক্তির সমস্ত প্ল্যান অনুমোদনের পিছনে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কলকাতা পুরসভায় কী হয়েছে আমরা জানি না? কালীকে ধরলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। কালীই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। টাকা তুলে ক্যামাক স্ট্রিটে পাঠায়। এফআইআর হয়েছে, ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওই জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজে দেয়। চা পাতা গুদামজাত ও প্যাকেজিংয়ের জন্য ওই নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণে গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আপাতত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সমস্ত নির্মিয়মান কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । সেই সাথে তারাতলা কাণ্ডের পর উদ্ধারকার্যে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসা সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, কলকাতা পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স-সহ সকল উদ্ধারকারী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।।
