এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৩ আগস্ট : বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার হিন্দু নরসংহারের ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামলো কট্টর মৌলবাদী ও হিন্দু বিদ্বেষী দল জামায়াতে ইসলামী । রংপুর জেলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামী আজ বিক্ষোভ মিছিল করেছে । এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশের ছোট-বড় সমস্ত সমস্ত মিডিয়া হাউসে । আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে রংপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘটনায় ধৃত ২ যুবকের নাম প্রকাশ্যে এনেছেন । তার দাবি অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। তারা সম্পর্কে মামাতো পিসতুতো ভাই । পুলিশের কমিশনারের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে নেশা করছিল ধৃত দুই যুবক । তাতে বাধা দেওয়াতেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে ।
তবে স্থানীয় সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে মা প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় পাশাপাশি পড়ে থাকতে দেখা যায় । তাদের শরীর অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এতটাই বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল যে,আশপাশের বাসিন্দারা শিহরিত হয়ে যান । সঙ্গত কারনেই হতভাগ্য মা-মেয়েকে নির্মম হত্যার আগে গনধর্ষণ করা হয়েছিল বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা৷ যদিও যৌন নিগ্রহের কোনো প্রমান মেলেনি বলে দাবি করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ । তিনি আরও দাবি করেছেন, মা প্রীতিলতা চক্রবর্তীর দেহ গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় সিড়িতে পড়েছিল । যেখানে মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর গলায় গামছা ও দড়ি জড়ানো দেহটি উদ্ধার হয় কিছুটা দূরে । কিন্তু পুলিশ কমিশনারের বয়ান ও অকুস্থলের পৃথক দৃশ্যপট নিয়ে সন্দেহের উদ্রেগ হচ্ছে । অনেকেই পুলিশ কমিশনারের দাবিকে “দুর্বল চিত্রনাট্য” বলে অবিহিত করছেন । তাঁদের দাবি, ৪ জনকে একসাথে খুন করা ২৩ ও ১৯ বছরের দুই যুবকের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয় । আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, প্রকৃত ঘাতকদের আড়াল করতে ওই দুই হিন্দু যুবককে বাংলাদেশের পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসাচ্ছে । এবং এই গনহত্যার উপর চিরতরে পর্দা ফেলতে হয়তো ধৃত যুবকদের তড়িঘড়ি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে ।
রংপুরে হিন্দু শিক্ষককে সপরিবারে খুনের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের মধ্য থেকেই বিস্তর প্রশ্ন উঠছে । ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দাস ফেসবুক পেজে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল । সেখানে কয়েকজনের প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হল :
পি আর শুভ লিখেছেন,”হিন্দু হত্যা পরিকল্পিত ভাবেই হচ্ছে : গনপতি মাস্টারের বাসার পাশেই একটা পরিত্যক্ত বিল্ডিং আছে, মাদকাসক্ত ছেলে দুটা যদি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়েই গনপতি মাস্টারের পরিবারকে মেরে থাকে তাহলে তো তাদের পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এ মাদক সেবন করার কথা । জীবনও কখনো শুনছেন মাদকাসক্তরা পরিত্যক্ত বিল্ডিং বাদে কোনো নিয়মিত বাড়ির ছাদে মাদক সেবন করতে যায় ?
তারপর আবার সিনেমার মতো নাকি একজন একজন করে চারজনকে হত্যা করেছে, কি হাস্যকর কথাবার্তা। ছোট বাচ্চাটি নাকি ঘুমের মধ্যে ছিলো ওরে কেনো মারতে যাবে, কারণ যে দেখা পাইছে তাকে তো ছাদেই মারা হইছে।এখন আপনার যুক্তি যদি হয় ছাদে গনপতি মাস্টারকে মারতে গিয়ে প্রচুর ধস্তাধস্তিতে শব্দ হয় আর সেই শব্দে বাকিরা বুঝতে পেরেছে, তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে ছাঁদে এত শব্দ হইলো বাড়ির ভেতরের লোক বুঝা পাইলো কিন্তু পাশের কোনো লোক বুঝতে পারলো না, কি কাঁচা স্ক্রিপ্ট ! পাকিস্তান আফগানিস্তানের থেকেও ভয়াবহ অবস্থা হতে চলেছে বাংলাদেশের হিন্দুদের।
কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা জর্জ মিয়া ২:০ বুঝতেই পারলো না।”
সঞ্জয় পাল লিখেছেন,”সাংবাদিক Rajib Hasan দারুণ একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন–উনার ভাষ্যে-“১৭ বছর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে পুলিশের ব্রিফিং বিনা প্রশ্নে সত্যি ধরে নিতে আমি রাজি না। পুরো ব্রিফিং দুবার দেখেছি।
রংপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
★ পাশে তিনতলা ভবনটি নির্মাণাধীন ছিল। ওরা যদি ইয়াবা সেবন করতেই চায়, ওই ভবনে করাই তো ওদের জন্য বেশি সেফ ছিল, যেহেতু সেখানে লোকজন থাকে না। তারা লাফিয়ে দুই তলার ছাদে ইয়াবা সেবন করতে আসবে কেন, যেখানে কেউ থাকে?
★ আপনি (ব্রিফ করা পুলিশ কর্মকর্তা) বললেন, তারা পাশের ভবন থেকে এই ভবনে লাফিয়ে আসে। আমরা সেখানে গিয়েছি। তিন তলার ভবন থেকে দুই তলায় ওরা লাফিয়ে কীভাবে নামল?
★ এর আগে রংপুরে জাপানি এক নাগরিককে হত্যা আলোচিত হওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে ব্রিফিং করেছিল। পরে দেখা যায় পুলিশের ব্রিফিং ভুল ছিল। এখানেও আপনারা কোনো ভুল করছেন না তো?
★ দুজন হত্যাকারী মিলে চারজনকে হত্যা করে ফেলল? তাও ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেছে দেখে?
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকারীদের সামনে ভিকটিমরা একে একে আসে। সবাইকে মেরে ফেলার বর্ণনা একই রকম। প্রথমে গণপতি, তার পর তার স্ত্রী আসে তাকে, এর পর তার মেয়ে আসে তাকেও গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারা হয়।শুধু মেয়ের ক্ষেত্রে বর্ণনা একটু বদলে যায়। মেয়েকে শ্বাসরোধ করতে পরে রশিও ব্যবহার করতে হয়েছে।
চারজনের যে ছবি দেখলাম, তাতে হত্যাকারীকে বাধা দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি শক্তি গণপতি ও তার স্ত্রীর ছিল; তার মেয়ের হওয়ার কথা না।এই বর্ণনার ধারাবাহিকতায় খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা ছেলেকে মেরে ফেলার যুক্তিও খুব দুর্বল।যেগুলোর পরিষ্কার ব্যাখ্যা পুলিশ দিতে পারেনি।
হত্যার সুর্নিদিষ্ট কারণ আমি জানি না। হয়তো পুলিশ সত্যি বলছে। যদি সত্যিই হয়, মাদক রংপুরে ভয়াবহ এক সমস্যা। ইয়াবা রংপুর শুধু না, সারা বাংলাদেশকে গ্রাস করেছে।পুলিশের ভাষ্য সত্যি হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দায় দ্বিগুণ হয়। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে শুধু নন; ইয়াবার প্রধান রুট কক্সবাজারেরও সংসদ সদস্য।মাদকের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যুদ্ধ ঘোষণা দেখতে চাই।”
অনামিকা অনু লিখেছেন,”যদি হঠাৎ খুন করে থাকে, তাহলে ইলেকট্রিসিটি লাইন কাটল কেন? কারণ নিউজ চ্যানেলগুলো নিজেরাই বলেছিল, ইলেকট্রিসিটি লাইন কাটা পড়ার পরে ইলেকট্রিশিয়ানরা এসে লাইন কাটা তারের কানেকশন ঠিক করে।
২. পাশের বিল্ডিংটা এবং টিচার বিল্ডিং-এর থেকে অনেক উঁচু গ্যাপ আছে। তাহলে পালিয়ে গেল কীভাবে?
৩. মেয়েগুলোর কাপড়-চোপড় ছেঁড়া ছিল, গায়ে আঘাতের দাগ ছিল। Sexually assault করা না হলে এমন হওয়ার কথা না।
৪. ছেলেটা তো ঘুমাচ্ছিল। ছেলেটাকে মারল কেন?
৫. শিক্ষক গণপতি স্যারের লাশ ছাদে, বাকি মা-মেয়ের লাশ সিঁড়িতে। কিন্তু ছেলেটাকে যদি ঘুমের মধ্যে মেরেও থাকে, তাহলে লাশটা কেন খাট আর দেওয়ালের সাথে চাপা দিয়ে রাখা?
৬. সব গেটে তালা মারা কেন?
৭. এখন মোটামুটি সবাই forensic, DNA শব্দগুলো জানে। কোনো criminal murder করার পর কখনোই clue রেখে যাবে না। তাও আবার খেজুর খাওয়ার বিচি, শসা, ইয়াবা—এসব রেখে যাওয়ার কথা না।
৮. গণপতি বাবুর social media-তে তাঁর relatives-রা ৩টা পর্যন্ত active দেখিয়েছে। সবার mobile গুলো কোথায়? Gold চুরি করেছে, কিন্তু এতগুলো mobile কিছু করল না?
৯. Fridge-এর সামনে chair-এ লাল রঙের ওড়না রাখা এবং chair-এর উপর দাঁড়ালো বড় knife। সাথে floor-এ একটা দাঁড়ালো knife পড়ে ছিল। কেন? এই রকমভাবে কোনো family-তে knife পড়ে থাকার কথা না। And ওরা যদি already ছাদ, সিঁড়ি, bedroom-এ খুন করে থাকে, তাহলে drawing room-এ chair-এ লাল ওড়না এবং বড় দাঁড়ালো knife রাখার কারণ কী? Drawing room-এর floor-এ দাঁড়ালো knife কেন?
১০. Crime scene-এ এভাবে পুলিশের presence-এ এত লোক ঢুকল কেন? যাদের ঢুকতে দিয়েছে, কেন কোনো evidence যাতে নষ্ট না হয়, সেই রকম safety dress পরে ঢোকানো হয়নি?
১১. আশেপাশে maximum বাসাবাড়ি হিন্দুদের। তাহলে জুম্মার নামাজের জন্য অপেক্ষা করছিল কেন?
১২. ভোররাতে যদি তারা খুন করে, দুপুর পর্যন্ত যদি তারা গণপতি স্যারের বাসায় অপেক্ষা করেই থাকে, তাহলে ওই পাশের বাসার ছাদের মধ্যে কি কেউ আসেনি? Normally ভাড়াটিয়াদের তো কাপড় -চোপড় শুকাতে দিতে আসার কথা।
১৩. কারা স্যার গণপতির থেকে বাসা তোলার সময় চাঁদা দাবি করেছিলেন? And স্যার গণপতি ওই চাঁদা চাওয়া লোকদের সাথে কীভাবে মীমাংসা করেছিলেন?
১৪. পুরো একটা family murder করার পর, evidence রেখে যাওয়ার পর, normally কোনো criminal কি নিজের বাসায় থাকার কথা? নাকি আত্মগোপনে যাওয়ার কথা?
১৫. যেহেতু গণপতি স্যার ভোররাতে ছাদে গিয়েছিলেন আওয়াজ শুনে। এটা কিন্তু দুপুর না, বিকাল না—ভোররাত, I repeat। Normally এই সময় কোনো অস্বাভাবিক sound হলে আমরা চোর আসছে বা ডাকাত আসছে ধরে নিই। Normally যখন অস্বাভাবিক sound আমরা পাই, ঘরের পুরুষ মানুষরা হাতে একটা ডান্ডা বা লাঠি অন্তত রাখে safety-এর জন্য। একজন মানুষ ভোররাতে ছাদে sound পেয়ে একা গায়ে গামছা পরে চলে গেছে, কোনো safety-এর জন্য কিছু না নিয়ে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? ভোররাতে যখন আপনারা বাসায় অস্বাভাবিক sound পান, আপনারা কি এরকম খালি গায়ে দেখতে চলে যান? যেখানে বাংলাদেশে প্রায়ই অনেক অস্বাভাবিক হত্যা, homicide হচ্ছে।
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই তদন্তকারীদের, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও যুক্তিসঙ্গত উত্তর।
সুষ্ঠু তদন্ত চাই। নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। সত্য উদঘাটন চাই। ন্যায়বিচার চাই।যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা যে-ই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।।
নিহার হালদার নিহত শিক্ষকের নিথর দেহের ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন,”আমি রংপুরের ঘটনাটি নিয়ে একজন হিন্দু প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তির কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পেয়েছি। গতকাল থেকেই আমি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। বহুবার ডিবির সেকেন্ড অফিসার সনাতন চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রশাসনের এক কনিষ্ঠ হিন্দু কর্মকর্তা, যিনি আমাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে জানিয়েছেন ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটি নাকি সম্পূর্ণ বাস্তব চিত্র নয়।
হিন্দু কর্মকর্তা ভাষায়, নিহার দা এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা এবং এর পেছনে চাপ রয়েছে আমাদের। তবে প্রকৃত সত্য এখনও পরিষ্কার নয়।তিনি আরও জানান, এই ঘটনার উপস্থাপন রংপুরের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না শুধু মিডিয়া নয়, স্থানীয় সব ধর্ম-বর্ণের মানুষই সন্দিহান।
তিনি আরও বলেন, এই শিক্ষকের বাড়ি ও জমি নিয়ে পূর্ব থেকেই স্থানীয় কিছু বিরোধ ছিল। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি এই জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেছিল। পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের নজর পড়ে এবং নানা ধরনের চাপ ও হু*ম*কি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে।
তার দাবি অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত হ*ত্যা*কা*ণ্ড এবং এর পেছনে আরও গভীর কোনো সূত্র থাকতে পারে। দুইজন কে আটক করা হলেও, তাদের সাথে সঠিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ বা যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না হিন্দু অফিসার দের। এমনকি দায়িত্বে থাকা হিন্দু কর্মকর্তারাও তাদের সাথে কথা বলতে পারছেন না।
তিনি অনুরোধ করেছেন তার নাম গোপন রাখতে এবং সকলকে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, এই ঘটনার ভেতরে ভয়ানক কিছু লুকিয়ে আছে।একই সাথে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা হিন্দু কর্মকর্তারা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের সামনের সারিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
আমি এই বার্তাগুলো শুনে এবং পড়ে সত্যিই বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন। আমি আগেও সতর্ক করেছিলাম বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আমাদের সমাজের প্রভাবশালী, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষদের টার্গেট করা হতে পারে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সত্য এখনো স্পষ্ট নয়। তাই আবেগ নয়, সত্য উদঘাটনই এখন প্রধান দাবি হওয়া উচিত।
আমি গোটা বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ ও বিবেকবান মানুষদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি তুলুন। সত্য উদঘাটন হোক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।।
ই
