এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২২ মে : মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। আগামীকাল (২৩ মে) থেকে শুরু হতে যাওয়া তাঁর প্রথম চার দিনের ভারত সফরের আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ভারত যতটা কিনতে ইচ্ছুক, আমরা ততটাই বিক্রি করতে চাই। আমাদের আশা, ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমেরিকার ভাগে পড়বে।”
এদিকে, রুবিও ভারতকে ‘মহান মিত্র, মহান অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ইতিমধ্যেই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনায় নিযুক্ত রয়েছে। ভারতের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আগামী দিনে এটি একটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেবে। এই উন্নয়নে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র খুবই আগ্রহী বলে তিনি জানান।
আগামী ২৬শে মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা কোয়াড বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁর প্রথম বৈঠকটি কোয়াড দেশগুলোর সঙ্গে হয়েছিল, এই কথা স্মরণ করে তিনি বলেন যে এই সফরে কোয়াড জোটকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মার্কো রুবিও ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ভারতে থাকবেন। রুবিও ২৬ মে নয়াদিল্লিতে মর্যাদাপূর্ণ ‘কোয়াড’ বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবেন এবং ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।
মার্কো রুবিও ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর চার দিনের সফরে নয়াদিল্লি, কলকাতা, আগ্রা ও জয়পুর পরিদর্শন করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর এবং এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় জ্বালানি সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে নাড়িয়ে দিয়েছে।এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ ভারতের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণে তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের আমদানি তালিকায় তার অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে আগ্রহী।
এই সফরের আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ভারতে তেল সরবরাহের জন্য ভেনিজুয়েলাকে ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রপতিও ভারতে আসছেন, যা এই আলোচনাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার পেনি ওয়াং এবং জাপানের মোতেগি তোশিমিতসুর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতার ওপর আলোকপাত করা হবে।
সুইডেনে ন্যাটো বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পরপরই রুবিওর ভারতে আগমন এটাই তুলে ধরে যে, অংশীদার হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে নয়াদিল্লি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই সফর ভারতকে তার শক্তির উৎস বৈচিত্র্যময় করতে এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।।
