এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগণা,২২ মে : বিরোধী দলনেতা থাকার সময় শুভেন্দু অধিকারী তাকে বলেছিলেন “সাদা খাতার বিডিও” । অর্থাৎ ডবলুবিসিএস পরীক্ষায় খাতায় না লিখেও তিনি বিডিও বনে গিয়েছেন । তার বিরুদ্ধে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের পদে থেকেও শাসকদলের হয়ে কাজ করার বারবার অভিযোগ উঠেছে । দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ফলতার প্রাক্তন বিডিও সেই শানু বক্সী ফের খবরের শিরোনামে । সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ‘ববি’ বিস্ফোরক দাবি করেছেন,”ইনি কি আদপেই একজন বিডিও ? নাকি রাজনৈতিক প্রশাসনিক নেক্সাসের অপারেশনাল অ্যাসেট ?”
ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সী ‘কুখ্যাত’ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সাথে তার বিতর্কিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস হওয়ার কারণে ফের একবার সংবাদ শিরোনামে এসেছেন।অভিজিৎ সরকার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার দাবি করেছেন যে জাহাঙ্গির খানের প্রভাবেই শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও করা হয়েছিল। প্রকাশিত চ্যাটগুলিতে ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং জাহাঙ্গিরকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে পূর্বে নন্দকুমারের বিডিও হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও ফলতায় শানু বক্সীর বদলিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল ।২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ফলতা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন।ফেসবুকে পোস্ট করে ববির দাবি, তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তিনি কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দাবি করেছেন, ওই বিডিওকে ফলতায় আনার পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছিল। ববির আরও অভিযোগ, লোকসভা ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসারদের ভয় দেখানো এবং ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটেছিল। গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থেকে ফলতায় বিডিও হিসেবে আসেন শানু বক্সি। পরে বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে তিনি মালদহের হরিশচন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও হিসেবে কর্মরত। বিজেপি নেতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে শানু বক্সির দাবি, ভাইরাল হওয়া চ্যাট সত্যি কি না, তা প্রমাণ করতে হবে। তাঁর কথায়, “এআই-এর যুগে অনেক কিছু তৈরি করা সম্ভব।” পাশাপাশি তিনি জানান, সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনেই পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, শানু বক্সি চক্রবর্তীর বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার মাটিয়ালি থানা এলাকায়। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রায় বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ডব্লিউবিসিএস অফিসার হন।২০১৬ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার ব্লক এর বিডিও করা হয় তাকে ।বিজয় নারায়ণ চন্দ্রবংশী নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন যে শোনা যায়, নকশাল কোটাতে চাকরি পেয়েছিলেন শানু বক্সি । নন্দকুমার ব্লক এর বিডিও থাকাকালীন তার একাধিক কর্মকাণ্ডের কারনে বিতর্কের সৃষ্টি হয় ।
২০২৪ সালের লোকসভায় ফলতা বিধানসভায় এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। ২.০৫ লাখ ভোট এর ১.৮৫ লাখ বা ৯০% এর বেশি ভোট পান অভিষেক ব্যানার্জি ও এই বিধানসভা থেকে ১.৭লাখ এর বিশাল মার্জিন লিড করেন৷ যেটা এক অর্থে অভূতপূর্ব ও অতীতের জয়ী প্রার্থীদের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল। অতীতে প্রার্থী দের জয়ের ব্যবধান ১.২ থেকে ১.৫ লাখ ছিল সর্বোচ্চ। ওইসময় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসাবে অভূতপূর্ব ভূমিকা নিয়েছিলেন শানু বক্সী। এরপর তিনি উত্তরবঙ্গে নিজের বাড়ির কাছে ধূপগুড়ি তে বদলি হয়ে যান। ফলতা অঞ্চলে যে ভয়ানক অনাচার, অত্যাচার হয়েছে তাতে শানু বক্সীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা ছিল। ফলতায় কান পাতলে শোনা যায় যে জাহাঙ্গীর খানের সাথে শানু বক্সীর বেশ ভালোই সম্পর্ক ছিল।।
