প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৭ মে : পঞ্চাশ হাজার টাকা তোলা চেয়ে না পেয়ে এক ব্যক্তিকে মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন দুই তৃণমূল নেতা। ধৃতরা হলেন তপন মালিক এবং শেখ মিন্টু। ধৃতদের মধ্যে তপনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার অন্তর্গত জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের শিয়ালী গ্রামে । অপর ধৃত শেখ মিন্টু একই অঞ্চলের অমরপুর গ্রামের বাসিন্দা।আক্রান্ত উত্তম পানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জামালপুর থানার দুলিশ শনিবার রাতে এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে । সুনির্দিষ্ট ধারার মামলা রুজু করে পুলিশ এই দুই ধৃতকে রবিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে ।বিচারক শর্তসাপেক্ষ ধৃত দু’জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,আক্রান্ত উত্তম পান জামালপুরের জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের শিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা। চাষবাস করার পাশাপাশি তিনি ছোট খাটো ব্যবসাও করেন। তাঁর উপর হওয়া হামলা-আক্রমণের কথা জানিয়ে গত ১৬ মে তিনি জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশকে তিনি জানান, গত ১৬ মে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি শিয়ালী গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন । তখন এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা তপন মালিক এবং শেখ মিন্টু সহ আরো পাঁচজন তৃণমূল নেতা কর্মী দলবল নিয়ে তাঁর পথ আটকায়। এঁরা তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে । টাকা না দিলে প্রাণে মেরে দেওয়ার হামকিও দেয়।
উত্তম পানের অভিযোগ তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ
করতেই বাঁশ ও লাঠি দিয়ে তাঁকে বেপরোয়া মারধোর করে ওই সকল অভিযুক্তরা। প্রাণে বাঁচতে তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। কোনক্রমে নিজেকে প্রাণে বাঁচিয়ে জামালপুর হাসপাতালে পৌছে চিকিৎসা করিয়ে তিনি গোটা ঘটনা সবিস্তার উল্লেখ করে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়োর করেন। পুলিশ জানিয়েছে,দুই অভিযুক্ত ধরা পড়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের বিশেষ
অভিযানে মোট ৯টি আগ্নেআস্ত্র এবং ৯ রাউণ্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে।।
