এইদিন ওয়েবডেস্ক,পাকিস্তান,১১ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে রামজি নামে এক ব্যক্তির দুই নাবালিকা হিন্দু কন্যা, রূপী ও সীতাকে তাদের বাড়ি থেকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গির নামে দুই মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সিন্ধের তান্দো আল্লাহইয়ার জেলায় একটি আদালতের বাইরে মেয়ে দুটির অঝোরে কান্নার একটি ভিডিও এখন ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে বোনেরা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য বাড়িতে ফেরত পাঠানোর আকুতি জানাচ্ছে।
তবে, আদালত মেয়েদুটিকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। গত সপ্তাহে সামনে আসা একটি অপহরণ মামলার সূত্রে বুধবার টান্ডো আল্লাহইয়ারের ইব্রাহিম কলোনির এই দুই নাবালিকা হিন্দু বোনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের পরিবারের সদস্য এবং সংখ্যালঘু অধিকার কর্মীদের অভিযোগ,ওই দুই নাবালিকা বোনকে অপহরণ করার পর জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং পরবর্তীতে মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় ।
এদিকে, বৃহস্পতিবার একই জেলা টান্ডো আল্লাহইয়ারে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের দ্বারা আরও এক নাবালিকা হিন্দু মেয়ে অপহৃত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আশফাক টাউন থেকে পানসি কোহলি নামে ১৪ বছর বয়সী এক হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়ার পর টান্ডো আল্লাহইয়ারে উদ্বেগ বেড়েছে।
মামলাটি সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের কার্যক্রমের পর মেয়ে দুটিকে দুই দিনের জন্য একটি নিরাপদ বাড়িতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের বাইরে উপস্থিত লোকজন জানিয়েছেন, তারা মেয়ে দুটিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য বারবার আবেদন করতে শুনেছেন। তারা বলছিল: “আমাদের বাবা-মায়ের কাছে যেতে দিন।”
তাদের পরিবার দাবি করে যে, মেয়ে দুটিই নাবালিকা এবং তারা তাদের সুরক্ষা প্রদান ও মামলার পরিস্থিতি নিয়ে একটি স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। প্রকাশিত বিবৃতিগুলো এই মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে: কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এমন পরিস্থিতিতে মেয়েদের ইচ্ছা জানতে হবে, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে, স্বতন্ত্রভাবে এবং কোনো পক্ষের চাপ ছাড়াই কথা বলতে পারে।
মেয়েরা নাবালিকা হলে, তদন্ত ও যেকোনো বিচারিক কার্যক্রম জুড়ে তাদের বয়স এবং অসহায়ত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত। এই ধরনের অনেক ক্ষেত্রে, তদন্তকারী সংস্থাগুলো, বিশেষ করে পুলিশ, কন্যাহারা পরিবারগুলোকে সাহায্য করার পরিবর্তে নিজেদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয় এবং অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে।
সমাজ কর্মীরা বলেছেন যে, বয়স যাচাই করা হলে, উভয় মেয়েই সিন্ধু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৩-এর অধীনে শিশুর সংজ্ঞার মধ্যে পড়বে। এই আইন অনুযায়ী, লিঙ্গ নির্বিশেষে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিই শিশু। এই আইনে বাল্যবিবাহে লিপ্ত হওয়া, তা সম্পাদন করা, তাতে সহায়তা করা বা অন্য কোনোভাবে তা ঘটানোর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়াও, এই আইনের অধীনে অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোষ অযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত, এই নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আমজাদ সোলাঙ্গি এবং মনসুর সোলাঙ্গির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা আদালতে নিকাহনামা দাখিল করলেও মেয়েদের বয়স উল্লেখকারী কোনো সরকারি নথি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, এমনকি যে আলেমগণ ষড়যন্ত্র করে এবং নিকাহ সম্পন্ন করেন, তারাও দোষী এবং শাস্তিযোগ্য। কিন্তু পাকিস্তানের আইন আদালত ও পুলিশ উলটে অপরাধীদের নিরাপত্তা দেওয়ায় সংখ্যালঘুরা ন্যায়বিচার পায়না৷।

