এইদিন ওয়েবডেস্ক,কোচবিহার,০৪ আগস্ট : কোচবিহার জেলার সীমান্তবর্তী মেখলিগঞ্জ থেকে একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে । সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় তিনজন মিলে ১৮ বছরের একটি মেয়ের মুখে বিষ ঢেলে খুনের অভিযোগ উঠেছে ভিন সম্প্রদায়ের ৩ যুবকের বিরুদ্ধে । দীর্ঘ ৫ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (৩রা আগস্ট, ২০২৬) রাতে শম্পা বসাক নামে ওই মেয়েটি মারা যান । এই ঘটনায় হাসানুর রহমান, গোলাম ইসলাম ও রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে । ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি অঞ্চলের ১০৯ ব্রহ্মত্তোর বল্টুবাড়ি এলাকায় । বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শম্পা বসাকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ভিন সম্প্রদায়ের স্থানীয় এক যুবকের । যুবক বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল । কিন্তু ধর্ম পরিচয় আলাদা হওয়ার মেয়েটি ও তার পরিবার রাজি হয়নি৷ এরপর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন ১৮ বছরের ওই তরুনী । পরিবারের অভিযোগ, এই কারনে শম্পাকে বাড়ির সামনে একটি বাঁশ ঝাড়ের কাছে শম্পার মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেয় হাসানুর রহমান, গোলাম ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম । পরিবারের কথায়, দু’জন মেয়েটির হাত ধরে থাকে এবং অপরজন মুখে জোর করে বিষ ঢেলে দেয় ।
মৃতার কাকা দীপক বর্মনের অভিযোগ,মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার পর অভিযুক্তরা হুমকি দেয় যে ঘটনার কথা কাউকে জানালে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে বাবা-মাকে হত্যা করা হবে। এই ভয়ে মেয়েটি প্রথমে কাউকে কিছু জানায়নি । পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মেয়েটি ঘটনার কথা খুলে বলে ।
জানা গেছে,প্রথমে মেয়েটিকে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় । সেখানেও শারিরীক অবস্থার ক্রম অবনতি হতে থাকায় মেখলিগঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কিন্তু সোমবার রাতে মৃত্যু হয় ওই তরুনীর ।
মৃতার বাবা,পেশায় একজন টোটোচালক । তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ।পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে ।।
