এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১১ মে : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেলো রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টিম । উত্তরপ্রদেশে হানা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন শার্প শুটারকে । রবিবার গভীর রাতে গ্রেপ্তার করার পরেই ধৃতদের কলকাতায় এনে ভবানী ভবনে রাতভর একপ্রস্ত জেতাও করেছে তদন্তকারী দল । আজ সোমবার ধৃতদের বারাসত আদালতে তোলা হবে ৷ ধৃত তিনজন যে ভাড়াটে খুনি, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত গোয়েন্দারা । কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কার নির্দেশে তারা এই অপারেশন চালিয়েছিল? কেনই বা শপথ গ্রহণের ঠিক আগে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিশানা করা হলো? ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এই খুনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল চক্রীদের পরিচয় জানার চেষ্টা করবে সিআইডি ও এসটিএফের আধিকারিকেরা।
বালি টোলপ্লাজার সূত্রই ধরিয়ে দিল খুনিদের
চন্দ্রনাথ রথ খুনে টোলপ্লাজার সূত্র তদন্তে অন্যতম প্রধান ক্লু হয়ে ওঠে । খুনের আগে মাঝরাস্তায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি আটকেছিল আততায়ীদের একটি সিলভার রঙের নিসান মাইক্রা গাড়ি । ওই গাড়িটি চন্দ্রনাথকে খুন করার আগে বালি বালি টোলপ্লাজা পেরিয়েছিল এবং সেই সময় ইউপিআই পেমেন্ট করা হয়েছিল। কারা এই পেমেন্ট করেছিল, কাকে করেছিল, কী জন্য পেমেন্ট করা হয়েছিল – এইসব প্রশ্নের উত্তর ইউপিআই পেমেন্টের সূত্র ধরেই পেয়ে যায় তদন্তকারী দল । এই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করেই তদন্তকারীরা সরাসরি উত্তরপ্রদেশের লিঙ্কে পৌঁছান।
গত ৬ মে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকার কাছাকাছি মাঝরাস্তায় পিছন থেকে একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি এসে পথ আটকেছিল চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির। এরপরই অতর্কিতে হামলা হয় চন্দ্রনাথের উপর। প্রথমে কাচে গুলি করা হয়। তারপর গাড়ির জানলায় তৈরি হওয়া ছিদ্র দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে নিশ্চিত করা হয় চন্দ্রনাথের মৃত্যু । খুনের পরে ঘাতকরা বাইকে চড়ে পালায় । এদিকে গুলি লাগে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির চালকেরও। গুরুতর আহত অবস্থায় চন্দ্রনাথকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনটি ছিল অত্যন্ত পেশাদার। আততায়ীরা জানত গাড়ির ঠিক কোন জায়গায় চন্দ্রনাথ বসেন। তাঁর গতিবিধি আগে থেকে ‘রেইকি’ করা হয়েছিল। এমনকি তদন্তে বিভ্রান্তি ছড়াতে গাড়িতে একটি ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়, যা শিলিগুড়ির এক ব্যক্তির ওএলএক্স (OLX) বিজ্ঞাপন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল ।
এই খুনের ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত বলে বারবার দাবি করেছেন শাসকদল বিজেপির নেতানেত্রীরা । রাজনৈতিক কারনে বলে ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেছিলেন,’আমি ভবানীপুরে না জিতলে হয়ত চন্দ্রনাথকে খুন হতে হত না ।’ এখন দেখার বিষয় এই ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী কে এবং কবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ।।
