এইদিন ওয়েবডেস্ক,বিহার,১১ মে : বিহারের মুজাফফরপুরে একজন হিন্দু শিক্ষিকাকে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয়েছে। গরুর মাংস খাওয়া এবং বোরকা পরার জন্য তাঁকে এমনকি হেনস্থাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ । ভুক্তভোগী শিক্ষিকা তাঁর শ্বশুর মোহাম্মদ বশির, শাশুড়ি জিলা খাতুন, দেবর মোহাম্মদ শাম্মির এবং ননদ আনজুম পারভীনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে কাজী মোহাম্মদপুর থানা এলাকার সাদপুরা মিল্কি টোলার এক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে তাঁর প্রেম করে বিয়ে হয়। তার প্রেমিক গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই বিয়েতে অখুশি ছিলেন এবং প্রথম থেকেই তাঁকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানিয়েছেন যে, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে হিন্দু রীতিনীতি পালনে বাধা দিত এবং তাঁর উপর মুসলিম প্রথা চাপিয়ে দিত । তাঁকে বোরকা পরতে বাধ্য করা হতো এবং এমনকি গরুর মাংসও খাওয়ানো হতো। তিনি প্রতিরোধ করলে তাঁকে মারধর, গালিগালাজ এবং এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো।
দৈনিক ভাস্করকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী তাঁর ওপর হওয়া ঘটনার কথা বর্ণনা করে বলেন যে, তাঁর শ্বশুরবাড়িতে নারীদের কেবল সন্তান উৎপাদনের একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ভবিষ্যতে তাদের কাজে বাধ্য করার জন্য তাঁকে আরও সন্তান জন্ম দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
ভুক্তভোগী জানান যে, যখনই তাঁর স্বামী তাঁকে সমর্থন করেছেন বা হস্তক্ষেপ করেছেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকেও মারধর করেছে। তাঁর অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন যে, ২০২৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি প্রতিরোধ করলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
এই ঘটনা নিয়ে একটি পঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ২০ থেকে ৪০ জনের একটি ভিড় জমেছিল এবং সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে লোকজনকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী আরও জানান যে, তাঁর শ্বশুর তাঁর এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে ভরণপোষণের মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এই আইনি বিবাদ পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনায়, কাজী মোহাম্মদপুর থানার এসএইচও চন্দ্রভূষণ কুমার সিং জানিয়েছেন যে, ওই মহিলার আবেদনের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।।
