প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৮ অক্টোবর : কলকাতায় দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে আর ফেরা হল না গ্রামের বাড়িতে ! চোরাবাগানের পুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার বীরপুর গ্রামের একই পরিবারের মা-ছেলে সহ তিনজনের। মৃতেরা হলেন মা টগর বেজ (৪২) তাঁর ছেলে সন্দীপ বেজ (১৩) এবং টগরের ভাইয়ের স্ত্রী পিয়ালী পরামানিক (২৫)। এই দুর্ঘটনায় টগর বেজের মেয়ে আগমনী বেজ মারাত্মক জখম হয়েছে। আগমণী কলকাতার হাসপাতালে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।পুজোর আনন্দের মাঝে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বীরপুর গ্রামে।
টগর বেজের ভাসুর উদর বেজ জানান, দুর্গাপুজো উপলক্ষে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়েছিল তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী টগর বেজ ,ভাইপো সন্দীপ এবং ভাইজী আগমনী। কলকাতায় ঠাকুর দেখবে বলে ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে টগর বীরপুর গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা হয়। টগর ওইদিন প্রথম গিয়ে ওঠেন হুগলীর বালিয়া তাঁর বাপের বাড়িতে। ভাইয়ের স্ত্রী পিয়ালীকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন থেকেই তাঁরা কলকাতায় ঠাকুর দেখছিল।
উদয় বাবুর কথায় জানা গিয়েছে,আগমণী প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী।আর সন্দীপ স্থানীয় বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া পরিবার সদস্যদের জীবনটা যে এই ভাবে শেষ হয়ে যাবে তা বেজ বাড়ির কেউ কল্পনাও করতে পারেননি ।কথা ছিল, রবিবার বাড়ি ফিরবেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হল না। শনিবার রাতেই বীরপুর গ্রামের বাড়িতে দুঃসংবাদ পৌছায়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে মাধবডিহি থানার পুলিশকর্মীরা শনিবার রাতেই বীরপুর গ্রামে পৌছে যান ।তারা মৃত ও আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন । পুলিশ কর্তাদের কথায় জানা গিয়েছে আহত আগমনী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র রবিবার বেলায় বীরপুর গ্রামে পৌছে মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান।
ময়নাতদন্ত শেষে স্ত্রী ও ছেলের মৃতদেহ বীরপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে টগরের স্বামী সঞ্জয় বেজ কে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা রবিবার কলকাতা পৌছান । বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র দুপুরে বীরপুর গ্রামে পৌছে মৃতর পরিবারকে সমবেদনা জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, আগামী পরশুদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার বীরপুর গ্রামে এসে শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন বলে মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানিয়েছেন।।

