এইদিন ওয়েবডেস্ক,চন্ডীগড়,০৫ জুলাই : পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে কংগ্রেস পার্টি আবারও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বলে মনে হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি সহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ নেতা দলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলের পর প্রকাশ্যে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পর এবার পাঞ্জাব কংগ্রেসেও ভাগাভাগির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গুরুদাসপুরের সাংসদ সুখজিন্দর সিং রান্ধাওয়া গোপনে দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন। এই সময় তাঁকে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ তরুণ চুঘের সঙ্গে দেখা যায়।শাহের সঙ্গে দেখা করার পর রান্ধাওয়া বলেন, “পাঞ্জাব কংগ্রেসের পরিস্থিতি নিয়ে চান্নি এবং রাজা ওয়ারিংকে জিজ্ঞাসা করুন। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত ছিল না। এতগুলো বৈঠকের পরেও এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।”
রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চান্নি তার বাসভবনে সমর্থক নেতাদের একটি সভা ডাকেন, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়ক এবং প্রবীণ নেতা উপস্থিত ছিলেন।সভায় দলীয় সংগঠনে করা পরিবর্তনগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয় এবং অসন্তুষ্ট নেতারা তাদের অভিযোগ হাইকমান্ডের কাছে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। এদিকে, কংগ্রেস সাংসদ এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রান্ধাওয়ার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক পাঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে, রান্ধাওয়া স্পষ্ট করেছেন যে বৈঠকটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ছিল এবং তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাঞ্জাবে, বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় আইন- শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং পাকিস্তান-সমর্থিত কার্যকলাপের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি যেকোনো রাজনৈতিক জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ চলমান অসন্তোষের মধ্যে পাঞ্জাব বিজেপির রাজ্য সভাপতি কেওয়াল সিং ধিলন বলেছেন যে, বিজেপি একটি বৃহৎ পরিবার এবং সকল নেতাই দলে যোগ দিতে স্বাগত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে যে কংগ্রেসের কিছু অসন্তুষ্ট নেতা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে কংগ্রেসের ঐক্য প্রসঙ্গে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং বলেছেন, “আমাদের ঐক্য আর কীভাবে প্রমাণ করব তা আমি জানি না, আপনাদের বিশ্বাস করানোর জন্য কি আমাদের হাত ধরে লাফালাফি করতে হবে? কংগ্রেস দল ঐক্যবদ্ধ আছে, ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা দিবাস্বপ্ন দেখছে যে আমাদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে, বিদ্রোহ শুরু হবে, অথবা কেউ দল ভাগ করে বেরিয়ে যাবে। তারা স্বপ্ন দেখতে থাকুক; এসব কিছুই ঘটবে না। বস্তুত, চরণজিৎ সিং চান্নি সাহেব এবং আমি শীঘ্রই একই গাড়িতে একসঙ্গে ভ্রমণ করব৷’
তবে বিজেপি নেতা সৈয়দ শাহনাওয়াজ হুসেন বলেছেন, “পাঞ্জাবে কংগ্রেস দলের অবস্থা খুবই খারাপ। দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। কংগ্রেস বেশ কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাজা ওয়ারিংয়ের নিজস্ব দল আছে, চরণজিৎ সিং চান্নির আরেকটি, এবং অন্যান্য প্রবীণ নেতাদেরও নিজস্ব উপদল রয়েছে। ফলে কংগ্রেস বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং এর নেতারা প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছেন।”
