এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ আগস্ট : কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দেখানো পথ অনুসরণ করে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ত্যাগ করেন । বিজেপি নেতৃত্বাধীন (NDA)-এ কে সমর্থন জানিয়ে তারা একটা অনামি দল এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেন । কিন্তু এখন এনসিপিআই-এর ৩ মুসলিম সাংসদ বিজেপি জোটকে সমর্থন জানাবে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে । আজ মঙ্গলবার এনডিএ-র হাইপ্রোফাইল বৈঠকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেল এনসিপিআই-এর মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে । এনসিপিআই বরিষ্ঠ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সর্বাঙ্গীন একতা’র বার্তা দিলেও ওই তিন সাংসদ তার কথা কানেও তোলেননি । যথারীতি তারা অনুপস্থিত ছিলেন । ফলে তাদের ফের ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এ ফিরে আসা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ।
তবে প্রত্যাবর্তনের কথা না জানালেও সাংসদ আবু তাহের দিয়েছেন,’আমরা এনসিপিআই-তে থাকলেও এনডিএ-তে নেই। বিজেপি-র সঙ্গে কোনো ভাবেই যেতে পারব না।’ একই সুর শোনা গেছে খলিলুর রহমানের গলাতেও। ইউসুফ পাঠান এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করলেও মুসলিম ভোটব্যাংক ফ্যাক্টর যে তার মাথাতেও আছে এটা স্পষ্ট । কারন মুর্শিদাবাদ,জঙ্গিপুর আর বহরমপুর- এই তিন আসনই মুসলিম অধ্যুষিত । মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ত্যাগ করে তারা বিজেপি ঘেঁষা এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ ছিল তাদের কোর ভোটব্যাঙ্ক । এমনও খবর আসছিল, ক্ষোভ এতটাই তীব্র আকার ধারন করেছে তারা নিজের নিজের এলাকায় ঢুকতে পর্যন্ত পারছেন না৷ সেই কারণে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে যাওয়া বা এনডিএ-র শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওই ৩ সাংসদ ।
এদিকে কয়েক দিন ধরেই ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর তরফে বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে অনেকের ফিরে আসা নিয়ে প্রচার চলছিল । তাদের মধ্যে এই তিন সাংসদ নাকি ফের ‘কালীঘাট’ তৃণমূলে ফেরার জন্য আর্জি জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছিল। কালীঘাট তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এমনকি এও দাবি করেন, বিদ্রোহী শিবিরের অন্তত ৬ জন সাংসদ ও বেশ কয়েকজন বিধায়ক প্রতিনিয়ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন । এহেন পরিস্থিতিতে আজ দিল্লির বঙ্গভবনে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । এখন দেখার বিষয় কোন দিকের জল কোথায় গড়ায় ।।
