ইসলাম সম্পর্কে নিজের মতামত খোলাখুলি জানিয়েছেন গ্রিসের দার্শনিক ও লেখক হোমার পাভলোস(Homer Pavlos) । ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম “এক্স”-এ বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি । হোমার পাভলোসের কথায়,ভালো বা খারাপ ইসলাম বলে কিছু নেই। আছে শুধু ইসলাম, যা একই সাথে একটি ধর্ম এবং একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ।”
কিন্তু কেন তিনি এমন ভাবছেন ? এই বিষয়ে হোমার পাভলোস লিখেছেন,কনস্টান্টিনোপলের পতন হলে মুসলমানরা শহরটি থেকে জিহাদ ঘোষণা করে। জিহাদ কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয়ের নির্দেশ দিয়েছিল। আপনি যদি মনে করেন যে তারা এ নিয়ে ভাবে না, তবে আপনি একজন বোকা। তারা বদলায়নি। কনস্টান্টিনোপল থেকে প্রকাশ্যে ঘোষিত শেষ জিহাদ ছিল ১৯১৪ সালে, প্রায় ১০০ বছর আগে, মিত্রশক্তি ও কাফেরদের বিরুদ্ধে।’ তিনি তুরস্কের দুটি পুরনো ছবি সংযুক্ত করে লিখেছেন, প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কনস্টান্টিনোপলে খিলাফতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ পশ্চিমা কাফের ও মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে জিহাদ (পবিত্র যুদ্ধ) ঘোষণা করছেন।
বাকিটা তো আপনারা জানেনই। আনাতোলিয়ায় লক্ষ লক্ষ গ্রীক, আর্মেনীয় এবং অ্যাসিরীয়দের হত্যা করা হয়েছিল শুধুমাত্র এই কারণে যে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। তারা ছিল খ্রিস্টান। শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই তারা তুর্কি হয়ে যেতে পারত এবং আনাতোলিয়ায় শান্তিতে বসবাস করতে পারত। তারা একটি ছদ্ম-রাষ্ট্রে, পরিচয়হীন ও ইতিহাসহীন এক মিথ্যার মধ্যে বাস করত। কিন্তু তারা তাদের ধর্ম পরিবর্তন করতে অস্বীকার করেছিল, এবং এর জন্য তাদের পৈতৃক ভূমি ত্যাগ করতে হয়েছিল অথবা মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল।
তিনি লিখেছেন,এই গণহত্যাটি মুস্তাফা কামাল ও ইয়ং তুর্কিদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল এবং তাদের ইসলামিক ছদ্ম-রাষ্ট্র তৈরির উদ্দেশ্যে এটি জাতিগত ও ধর্মীয়ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
আজ এরদোয়ান নিজেকে ‘সকল মুসলমানের খলিফা’ বলে দাবি করেন এবং কামালের প্রশংসা করেন ।এটাই ইসলাম। এটাই তুরস্কের বর্বর রাষ্ট্র। এটা রাজনীতিবিদদের দোষ নয়। এগুলো তুরস্কের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সম্মিলিত বিশ্বাস। তারা আমাদের ঘৃণা করে এবং তারা বর্বর।
হোমার পাভলোস লিখেছেন,১৯৭৪ সালে সাইপ্রাস আক্রমণের সময় তারা তাদের আসল চেহারা দেখিয়েছিল, যেখানে তুর্কি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের উপর গণহত্যা চালিয়েছিল। শুধু আত্মসমর্পণকারী নিরস্ত্র সৈন্যরাই নয়, ৬ মাস থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু, নারী, ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত বৃদ্ধসহ বেসামরিক নাগরিক, এমনকি পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং অন্ধ ব্যক্তিরাও তুর্কি সৈন্যদের হাতে নিহত হয়েছিল। রেড ক্রস এবং অন্যান্য সূত্রের নথিপত্রে এটাই ইতিহাস। প্রতিবেদন অনুসারে, তুর্কিরা ১২ থেকে ৭১ বছর বয়সী সকল গ্রিক খ্রিস্টান নারীদের ওপর গণহারে ও বারবার ধর্ষণ চালিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণের মাত্রা এতটাই ছিল যে, ভুক্তভোগীরা রক্তক্ষরণে (ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালী থেকে রক্তক্ষরণ) ভুগেছেন অথবা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন। সমস্ত নারী ও মেয়েদের খালি বাড়ির আলাদা আলাদা কক্ষে জড়ো করা হয়েছিল। সেখানে তুর্কি সৈন্যরা তাদের বারবার ধর্ষণ করে। কিছু ক্ষেত্রে, একই পরিবারের সদস্যদের তাদের নিজেদের সন্তানদের সামনেই বারবার ধর্ষণ করা হয়েছে। অন্য কিছু ক্ষেত্রে, নারীদের প্রকাশ্যে পাশবিক উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, ধর্ষণের সাথে নৃশংস কার্যকলাপও করা হয়েছে, যেমন—হিংস্রভাবে কামড়ে ভুক্তভোগীদের গুরুতরভাবে আহত করা, মেঝেতে মাথা ঠুকে দেওয়া এবং শ্বাসরোধ করে প্রায় মেরে ফেলার মতো করে গলা টিপে ধরা। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, ধর্ষণের চেষ্টার সাথে সাথে ভুক্তভোগীকে ছুরিকাঘাত বা হত্যাও করা হয়েছে। ধর্ষিতাদের মধ্যে গর্ভবতী নারীরাও ছিলেন।
গ্রীক দার্শনিক লিখেছেন,এবং আরও অনেক ঘটনার মধ্যে, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে তার বাড়িতে একের পর এক বিশজন সৈন্য ধর্ষণ করেছিল। যখন মেয়েটি চিৎকার করতে শুরু করে, তখন তারা তাকে দোতলার জানালা থেকে নিচে ফেলে দেয়: এতে তার মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে এবং সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বেঁচে যাওয়া নারীদের এবং রেড ক্রসের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রামাণ্য দলিল রয়েছে।
আনাতোলিয়ায় গণহত্যা ঘটেছিল ১০০ বছর আগে, গ্রিকদের বিরুদ্ধে কনস্টান্টিনোপলের দাঙ্গা ঘটেছিল ৭১ বছর আগে এবং সাইপ্রাস আক্রমণ ঘটেছিল ৫২ বছর আগে। এটা আমাদের ইতিহাসের, আমাদের প্রজন্মের অংশ। এটাই ইসলাম।
তিনি বলেছেন,যে কোনো মুসলিম যদি আপনাকে এর অন্যথা বলে, তবে সে মিথ্যা বলছে। ইসলামের আদেশ: হয় বিশ্বাসী হও, নয়তো দাস হও, অথবা মৃত্যুবরণ করো। তারা প্রতিটি পশ্চিমা দেশকে ধ্বংস করতে চায়।নিজেদের দেশ থেকে সেই জাহাজে ওঠার আগেই তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তাদের জন্মই হয়েছে এর জন্য: আক্রমণ ও ধ্বংস করার জন্য। একারণেই যুদ্ধ-প্রস্তুত তরুণরা অবৈধভাবে ইউরোপ ও পশ্চিমে আসে; নইলে তারা প্রাচ্য ও মুসলিম দেশগুলোতেই থেকে যেত। শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল বিজয়। তারা পশ্চিমাদের সাথে প্রকাশ্য যুদ্ধ করতে পারে না, তাই তারা তাদের নারীদেরকে সন্তান জন্মদানের যন্ত্রে পরিণত করে। তারা হত্যা করে, খুন করে, ধর্ষণ করে, চুরি করে এবং আপনাদের দেশের প্রতিটি মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেয়।
তিনি পশ্চিমা দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, প্রতিরোধ করুন, নইলে আপনারা বিলীন হয়ে যাবেন, ঠিক যেমন প্রতিটি জাতি যারা নিজেদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করেনি তারা বিলীন হয়ে গেছে। অস্তিত্বহীনতার অতল গহ্বরে সুমেরীয়দের সাথে মিলিত হওয়ার এবং ইতিহাসের বইয়ের একটি পাতায় পরিণত হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিন।
তিনি লিখেছেন,কখনো ভুলবেন না: শত্রুর সাথে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক নয়, যারা আপনাকে, আপনার নারীদের এবং আপনার সন্তানদের মৃত বা দাস বানাতে চায়। সেই বিশ্বাসঘাতকদের সাথেও কোনো আলোচনা নয়, যারা তাদের পরিকল্পনায় সাহায্য করে। এটা গুরুত্বপূর্ণ।
★ দাবিত্যাগ : প্রতিবেদনটি গ্রিসের দার্শনিক ও লেখক হোমার পাভলোস(Homer Pavlos)-এর এক্স হ্যান্ডেলে ইংরাজিতে লেখা প্রতিবেদনের অনুবাদ । বিষয়টি নিয়ে মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব । এর সঙ্গে এইদিনের কোনো সম্পর্ক নেই ।
