এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২০ মে : নাইজেরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে চালিয়ে উত্তর- পূর্বাঞ্চলে বিমান ও স্থল হামলায় কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামি স্টেটের ১৭৫ জন সন্ত্রাসবাদীকে নিকেশ করা হয়েছে । এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সহযোগিতায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিযানটি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স ।
এই অভিযানে ‘আইএসআইএস পশ্চিম আফ্রিকা’ গোষ্ঠীর চেকপয়েন্ট, অস্ত্রের ডিপো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করা হয়।সামরিক কর্মকর্তারা আরও জানান যে, উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় গোষ্ঠীটির সন্ত্রাসবাদীদের ‘খুঁজে বের করে ধ্বংস’ করার একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ ছিল এই হামলাগুলো।
প্রাথমিকভাবে, সশস্ত্র বাহিনী ২০ জনেরও বেশি আইএস সদস্য খতম হওয়ার খবর জানিয়েছিল। নাইজেরীয় সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বোরনোতে চালানো এই অভিযানে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি আইএস-এর চেকপয়েন্ট ও অস্ত্রের ডিপো ধ্বংস করার কথা ছিল। আফ্রিকার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ড এই যৌথ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং বলেছে যে নাইজেরীয় বা মার্কিন কোনো সৈন্যই আহত হয়নি।
সামরিক সূত্র মতে, এই অভিযানে হামলা পরিকল্পনা ও প্রচারণা কার্যক্রমে জড়িত গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকজন নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও খতম হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী আবু বিলাল আল-মিনুকি । ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইসলামিক স্টেটের বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয়-সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উপস্থাপিত, আবু বিলাল আল-মিনুকি নাইজেরিয়া এবং সাহেল জুড়ে আইএসডব্লিউএপি (ISWAP) নেটওয়ার্কগুলিতে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল ।মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, তিনি গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি আফ্রিকান শাখার জন্য অর্থায়ন, অভিযানিক সমন্বয়, প্রচার এবং অস্ত্র-সম্পর্কিত সক্ষমতার তত্ত্বাবধান করত ওই সন্ত্রাসী । ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন কর্তৃক একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতা হিসেবে তালিকাভুক্ত, সে ইসলামিক স্টেটের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং এর আফ্রিকান শাখাগুলির মধ্যে একজন মূল সংযোগকারী হিসেবে কাজ করত ।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইসিসের কার্যকলাপের সিংহভাগ আফ্রিকা মহাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এই অঞ্চলটি গোষ্ঠীটির কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত বছর, উভয় দেশ সামরিক সহযোগিতায় সম্মত হয়েছিল। এর আগে, একটি কূটনৈতিক বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধিরা নাইজেরীয় সরকারের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়নের বিষয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ করেছিল ।।
