দশাবতার স্তুতি মূলত হিন্দু ধর্মে ভগবান বিষ্ণুর দশটি প্রধান অবতারের বন্দনা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করার স্তোত্র বা প্রার্থনা। এর মধ্যে কবি জয়দেবের লেখা ‘শ্রী দশাবতার স্তোত্র’ এবং শ্রী বদিরাজা তীর্থ রচিত ‘দশাবতার স্তুতি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নিয়মিত এই স্তুতি পাঠ করলে মনের ভয় দূর হয়, পাপ মোচন হয় এবং ভক্তি বৃদ্ধি পায়।
নামস্মরণাদন্যোপায়ং ন হি পশ্যামো ভবতরণে ।
রাম হরে কৃষ্ণ হরে তব নাম বদামি সদা নৃহরে ॥
বেদোদ্ধারবিচারমতে সোমকদানবসংহরণে ।
মীনাকারশরীর নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥১॥
মংথানাচলধারণহেতো দেবাসুর পরিপাল বিভো ।
কূর্মাকারশরীর নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥২॥
ভূচোরকহর পুণ্যমতে ক্রীড়োদ্ধৃতভূদেবহরে ।
ক্রোড়াকারশরীর নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৩॥
হিরণ্যকশিপুচ্ছেদনহেতো প্রহ্লাদাঽভযয়ধারণহেতো ।
নরসিংহাচ্যিতরূপ নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৪।
ভববংধনহর বিততমতে পাদোদকবিহতাঘততে ।
বটুপটুবেষমনোজ্ঞ নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৫।
ক্ষিতিপতিবংশক্ষযকরমূর্তে ক্ষিতিপতিকর্তাহরমূর্তে ।
ভৃগুকুলরাম পরেশ নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৬
সীতাবল্লভ দাশরথে দশরথনন্দন লোকগুরো ।
রাবণমর্দন রাম নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৭॥
কৃষ্ণানন্ত কৃপাজলধে কংসারে কমলেশ হরে ।
কালিয়মর্দন লোকগুরো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৮।
দানবসতিমানাপহর ত্রিপুরবিজয়মর্দনরূপ ।
বুদ্ধজ্ঞায় চ বৌদ্ধ নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥৯॥
শিষ্টজনাবন দুষ্টহর খগতুরগোত্তমবাহন তে ।
কল্কিরূপপরিপাল নমো ভক্তং তে পরিপালয় মাম্ ॥১০॥
নামস্মরণাদন্যোপায়ং ন হি পশ্যামো ভবতরণে ।
রাম হরে কৃষ্ণ হরে তব নাম বদামি সদা নৃহরে ॥
।। ইতি দশাবতার স্তুতিঃ ।।
বিষ্ণুর দশাবতার এবং স্তুতির মূল ভাবার্থ নিচে দেওয়া হলো:
১. মৎস্য অবতার : মহাপ্রলয়ের সময় বেদ উদ্ধার করতে এবং সত্যব্রত রাজাকে রক্ষা করতে ভগবান মৎস্য রূপে অবতীর্ণ হন।
২. কূর্ম অবতার (কচ্ছপ): সমুদ্র মন্থনের সময় দেব ও অসুরদের সাহায্যার্থে তিনি কচ্ছপ রূপে মন্দর পর্বতকে নিজের পিঠে ধারণ করেন।
৩. বরাহ অবতার (শূকর): হিরণ্যাক্ষ নামক অসুরকে বধ করে পৃথিবী বা ধরণীকে সমুদ্রগর্ভ থেকে উদ্ধার করেন বরাহ রূপে।
৪. নৃসিংহ অবতার (অর্ধনরসিংহ): প্রহ্লাদকে রক্ষা করতে এবং হিরণ্যকশিপুকে বধ করতে তিনি নৃসিংহ রূপে আবির্ভূত হন।
৫. বামন অবতার : দেবতাদের হৃত স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি বামন রূপে বলির যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হন।
৬. পরশুরাম : ক্ষত্রিয়দের অত্যাচার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করতে তিনি পরশুরাম রূপে অবতীর্ণ হন।
৭. রামচন্দ্র : রাবণ বধের মাধ্যমে অধর্ম বিনাশ করে আদর্শ রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি রাম রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
৮. কৃষ্ণ : কংস বধ ও মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনকে গীতার উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে ধর্ম রক্ষার জন্য তিনি কৃষ্ণ রূপে আসেন।
৯. বুদ্ধ : অহিংসা ও করুণার বাণী প্রচারের জন্য তিনি বুদ্ধ রূপে অবতীর্ণ হন।
১০. কল্কি (ভবিষ্যৎ অবতার): কলিযুগের শেষে পৃথিবীর পাপের বিনাশ করে ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কল্কি রূপে অবতীর্ণ হবেন বলে বিশ্বাস করা হয়।
