এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২০ অক্টোবর : গতকাল মহাষ্টমীর দিন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথিতে দুর্গাপূজায় অংশ নিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বামপন্থীদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন,’কমিউনিস্ট ও আরশোলাদের থেকে সাবধান ! এরা ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে ।’ প্রায় একই বিষয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে সতর্ক করে দিয়ে এলেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়ানিভ রেভাচ (Yaniv Revach) । তিনি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ সংরক্ষণের ওপর আরএসএস প্রধানের গুরুত্বারোপকে সমর্থন করেছেন এবং চরম-বামপন্থী মার্ক্সবাদী শক্তির অস্থিতিশীলকারী প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। ইয়ানিভ রেভাচ বলেন,’আপনারা যখন অতিরিক্ত প্রগতিশীল হন, তখন ইউরোপে কী ঘটে তা আমরা দেখতে পাই।’ তিনি ভারত ও ইসরায়েলকে তাদের পরিচয় ও মূল্যবোধ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন । তিনি ইসরালগামী ফ্লাই দুবাই ফ্লাইটে জিহাদি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, “ক্যাপ্টেন স্মিথ ভারতীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা অনুসারে বেড়ে উঠেছেন বলেও ফ্লাইটে এতগুলো মানুষকে বাঁচাতে পেরেছেন” ।
সংবাদ সংস্থা এএনআই বলেছে,আরএসএস-এর শতবর্ষ বিজয়াদশমী উৎসবে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণের প্রসঙ্গে মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ বলেন, “আমি এখানে আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত… গতকাল ডঃ মোহন জির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল এবং আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। আমরা বুঝতে পেরেছি যে ভারত ও ইসরায়েল, উভয় দেশই শুধু একই মূল্যবোধ ধারণ করে না, দুর্ভাগ্যবশত, আমরা একই ধরনের প্রতিবন্ধকতারও সম্মুখীন। আজ যখন আমি তাঁর ভাষণ শুনছিলাম, ডঃ মোহন জি উল্লেখ করেছেন যে আমাদের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত… আমাদের ভবিষ্যৎ—প্রযুক্তি, শিক্ষা—এর দিকেও নজর দেওয়া উচিত এবং একই সাথে তাদের ঐতিহ্যের—ভবিষ্যৎ ও অতীতের—সাথে সংযুক্ত করা উচিত। ইসরায়েলে আমরা ঠিক একই কাজ করি। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ককে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা দেখতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত, শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, জনগণের মধ্যেও।”
তিনি আরও বলেন, “ডঃ মোহন জি আজ তাঁর ভাষণে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন: আমরা যদি আমাদের পরিচয় ও মূল্যবোধ রক্ষা না করি, তাহলে ইউরোপে ঠিক তাই ঘটছে যা আমরা দেখতে পাচ্ছি, যখন অন্যান্য বহিরাগত শক্তিগুলো অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। শুধু ইউরোপেই নয়, আমরা ভারত ও ইসরায়েলেও এটি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের পরিচয়কে শক্তিশালী করার জন্য কাজ চালিয়ে যেতে হবে, যাতে ঐসব চরম বামপন্থী মার্ক্সবাদী শক্তিগুলো আমাদের মূল্যবোধকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে না পারে… আমরা দেখতে পাচ্ছি ইউরোপে কী ঘটছে যখন আপনারা অতিরিক্ত প্রগতিশীল হন। দিনের শেষে, আমরা যদি আমাদের শিকড়, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি রক্ষা না করি, তাহলে আমরা আমাদের পরিচয় হারাবো, এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি এর পরিণতি ঠিক কী হয়।”
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বিষয়ে মোহন ভাগবতের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “…আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ক্যাপ্টেন স্মিথ ভারতেই এবং এখানকার মূল্যবোধ ও নৈতিকতা অনুসারে বেড়ে উঠেছেন, এবং এটিই অন্যতম কারণ যে তিনি এই ফ্লাইটে এতগুলো মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন।”
উল্লেখ্য,ফ্রান্সে বর্তমানে চুড়ান্ত নৈরাজ্য চলছে । মুসলিম অভিবাসীদের উসকে দিয়ে উগ্র বামপন্থীরা দেশে নাশকতার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খোদ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ । ফ্রান্স থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইউরোগের অনান্য দেশগুলিতে চুড়ান্ত নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছে । দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের তরুণ অভিবাসীরা ইতালির মিলানে দোকানপাট লুট করা শুরু করেছে । পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও ছড়িয়েছে হিংসা । আন্তর্জাতিক ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ মূলধারার গণমাধ্যম ইউরোপের পরিস্থিতি ঠিক কতটা খারাপ, তা তুলে ধরছে না ।
আম আদমি পার্টি,বামপন্থী,কংগ্রেস,তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির মত তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি একই কায়দায় ভারতেও কেন্দ্র সরকারের পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে । ওই দলগুলি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে সামনে রেখে এই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ । কিন্তু দেশের জাতীয়তাবাদীদের তীব্র প্রতিবন্ধকতার কারনে তাদের দু’দফার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় । এখন শোনা যাচ্ছে যে কংগ্রেসের “যুবরাজ” রাহুল গাঁধি গোপনে ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। সেখান থেকে তিনি আমেরিকায় যাবেন । কিন্তু তিনি ঠিক কি উদ্দেশ্যে গোপনে বিদেশ যাত্রা করছেন তা এখনো স্পষ্ট নয় ।।

