পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),২৬ মে : পঞ্চায়েতের গেটের সামনে থেকে উদ্ধার হল তৃণমূলের মহিলা প্রধানের স্বামীর ঝুলন্ত দেহ । পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা থানার অন্তর্গত কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েত কার্যালয়ের মৃণাল বিশ্বাস নামে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে আজ মঙ্গলবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায় । খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কালনা মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় । প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন । এদিকে মৃতের পরিবারের অভিযোগ,স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে প্রেমিকের সাথে থাকতে শুরু করায় মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন মৃণালবাবু । যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৃতের স্ত্রী লিপিকা বিশ্বাস৷ লিপিকাদেবীর পালটা অভিযোগ যে তার স্বামীর সন্দেহের কারনেই তাদের সংসার ভেঙেছে ।
জানা গেছে,কৃষ্ণদেবপুর রায়পাড়া এলাকায় বাড়ি মৃত মৃণাল বিশ্বাসের । বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা বিধবা মা৷ একমাত্র বোনের বিয়ে হয়েছে ধাত্রীগ্রামে । মৃণালবাবুর স্ত্রী লিপিকাদেবী কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান । ওই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান আছে । দাম্পত্য কলহের জেরে বছর দুয়েক আগে মেয়েকে নিয়ে কালনা শহরের অন্যত্র ঘরভাড়া করে থাকছেন লিপিকাদেবী । যদিও তাদের আইন সঙ্গতভাবে এখনো বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি ।
মৃতের বোন বোন রাধারানী বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘কৃষ্ণদেবপুর গ্রামেরই এক তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে আমার বউদি । সেই কারনে বাড়িতে অশান্তি হত । বছর দুয়েক আগে ভাইঝিকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যায় । কালনা শহরে ঘরভাড়া করে সেখানে প্রেমিকের সাথে বসবাস করছে ।’ তিনি বলেন,’আমরা বউদিকে আনার বহু চেষ্টা করেছি । কিন্তু তিনি প্রেমিককে ছাড়তে কিছুতেই রাজি হননি । এমনকি ভাইঝিকেও ছাড়েনি । সেই কারনে আমার দাদা অবসাদে ভুগছিলেন । আর তার জেরেই আজ আমায় আমার দাদাকে হারাতে হল।’
যদিও পরকীয়া সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন লিপিকা বিশ্বাস । তার কথায়,’এক সিভিক ভলান্টিয়ারের কান ভাঙানিতে আমার স্বামী আমাকে সন্দেহ করত । আমাকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেয়নি । সেই কারনে আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছিলাম । মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন ।’ যদিও মৃতের পরিবার জানিয়েছে, তারা লিপিকা বিশ্বাস ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করবেন ।।
