এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,১০ জুলাই : ‘বন্দে মাতরম গাইব না । জাতীয় সঙ্গীত গাইব না । ২৬শে জানুয়ারি, ১৫ই আগস্ট জাতীয় পতকা তুলবো না৷ পি*এফ*আই,সি*মিকে ঢোকাব । যা খুশি করব । পুলিশ সাটারের নিচে ঢুকবে । এ জিনিস অতীত ।’ আজ শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে দাঁড়িয়ে ঠিক এই ভাষাতেই সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,’সংবিধান মেনে, দেশকে মেনে,রাষ্ট্রবাদকে মেনে আপনিও নাগরিক। আপনি আপনার অধিকার আমার কাছ থেকে, আমাদের কাছ থেকে বুঝে নেবেন । এটাই হওয়া উচিত ।’
আজ শুক্রবার বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার ডাকে রেজিনগরে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । জেলায় একাধিক প্রকল্প শুরু করার কথা ঘোষণা করেন তিনি । সেই সাথে হুমায়ুন কবিরের গড় বলে পরিচিত রেজিনগরে দাঁড়িয়ে তিনি ধর্মীয় মৌলবাদের কথা উল্লেখ না করেও ইশারায় সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রথম । সংবিধান মানতে হবে ।’ সেই সাথে সম্প্রতি নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী নই । আমি মমতা ব্যানার্জির মত কাপুরুষ মুখ্যমন্ত্রী নই । আপনি যা খুশি বলে যাবেন আর আমি সব শুনে যাব, এটা আমার আমলে হবে না ।’
রাজ্য বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে ‘গুন্ডাদমন’ বিল। আগামী সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে লাগু হবে এই আইন। একথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বস্ত করে বলেন, আর কোনওদিন সামশেরগঞ্জ কিংবা ধুলিয়ানের মতো ঘটনা ঘটবে না ।
২০১৯ সালে সিএএ পাশের পর বাংলায় ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে । মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ায় ব্যাপক হিংসাত্মক বিক্ষোভ হয় । প্রতিবাদের নামে বেশ কিছু জায়গায় ট্রেন, বাস এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘রেল, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারা – এসব অতীত। নারী সুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। মামলাগুলির বিচার দ্রুত হবে। সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সেসব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, নিয়ম মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া হয়ে গিয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে লাগু গুন্ডাদমন আইন।’ সেই সাথে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন ‘মমতা ব্যানার্জি খালি আগুন লাগাতে জানতেন। আর এতে ক্ষতি হত সাধারণ মানুষের ।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন সামরেগঞ্জের খুন হওয়া পিতাপুত্র হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের নাম উল্লেখ করেন । পাশাপাশি সামেরগঞ্জ, ধুলিয়ানসহ বেশি কয়েকটি গ্রামের হিন্দুদের ক্ষয়ক্ষতি ও ঘরছাড়া হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী ।।
