এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,০৩ মে : ইভিএম কারচুপি ও বুথ জ্যামের মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন । গত ২৯শে এপ্রিল ওই কেন্দ্রে ভোট হয় । কিন্তু তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের দুর্বৃত্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠে একাধিক গুরুতর অভিযোগ । শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল জানান যে আগামী ২১শে মে ওই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলাফল আগামীকাল ৪ঠা মে ঘোষিত হলেও, ফলতা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে ২৪শে মে। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এটা নির্বাচন কমিশনের কার্যত ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ফলতায় ভোটগ্রহণের দিন বুথ দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং ইভিএমের ব্যালট ইউনিটে বিজেপির প্রতীকের ওপর টেপ মেরে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এমনকি ইভিএমের বোতামে আঠা বা আতর লাগিয়ে নির্দিষ্ট দলের পক্ষে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও পাওয়া যায়। অভিযোগের তীর ছিল মূলত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত নিজেই এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে কমিশনে স্ক্রুটিনি রিপোর্ট জমা দেন। মূলত ৩০টি বুথে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো বিধানসভার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন ।সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন গোটা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের এই কড়া পদক্ষেপ নিল।
আইন কী বলছে?
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮-এ ধারা অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম বা অসংগতি ধরা পড়লে নির্বাচন কমিশন পুরো কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের আদেশ দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রক্তপাতহীন ও ১০০ শতাংশ স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। অতীতে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও, অনিয়মের কারণে স্বাধীনতার পর গোটা একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে ফল প্রকাশের পর ফের ভোটগ্রহণের এমন নজির দেশে সম্ভবত প্রথম।।
