এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৫ অক্টোবর : কোনো প্রমান ছাড়া আলটপকা মন্তব্য করে মোক্ষম ফেঁসে গেলেন কৃষ্ণনগরের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ সাংসদ মহুয়া মৈত্র । আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল আলিপুর আদালতে ৷ বিচারপতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন । একই সঙ্গে তাঁকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকারি আধিকারিককে নিয়ে এই ধরনের কোনো মানহানিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। শুধু তাইই নয়, মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি টাকা এবং আইনি খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক । মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারী ।
গত ৩ ও ৬ অক্টোবর নিজের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে এসআইআর-এ ভোটার লিস্টে এক কোটির কাছাকাছি অবৈধ নাম বাদ যাওয়ায় রাজ্যের মুখ্যসচিব তথা প্রাক্তন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোটচোর’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। তিনি দাবি করেন, বাদ যাওয়া সমস্ত নামই নাকি বৈধ । মুখ্যসচিবকে নিশানা করে তিনি আরও লিখেছিলেন,‘দেশ এবার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।’
এই পোস্টের পর মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে মহুয়া মৈত্রকে প্রথমে একটি আইনি নোটিস পাঠিয়ে পোস্ট ডিলিট করা, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ১০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল। মহুয়া বিষয়টি পাত্তা না দেওয়ায় মনোজ আগরওয়াল আদালতের দ্বারস্থ হন।
আজ শুনানিতে আলিপুর আদালতের বিচারক এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে জানিয়েছেন, নির্দেশনামা পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহুয়া মৈত্রকে তাঁর এক্স হ্যান্ডল থেকে গত ৩ অক্টোবর ও ৬ অক্টোবরের বিতর্কিত পোস্ট দুটি মুছে ফেলতে হবে। একই সাথে, আদালত মহুয়া বা তাঁর প্রতিনিধিদের মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মানহানিকর বক্তব্য পোস্ট বা শেয়ার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।এর পাশাপাশি মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ কোটি টাকা এবং আইনি খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ আপাতত আগামী ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ওই দিন মামলার পরবর্তী শুনানি এবং মহুয়া মৈত্রকে এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তাঁর লিখিত আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই নির্দেশ কোনো আধিকারিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অবমাননাকর ব্যক্তিগত আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা সরকারি সিদ্ধান্তের ন্যায্য সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।।

