এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ মে : কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের চিংড়িঘাটা ক্রসিং সেকশনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই কাজটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। এর ফলে কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্কের একটি বড় বাধা দূর হলো। শীঘ্রই এই রুটে মেট্রো ট্রেন চলাচল শুরু হবে। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে। আজ সোমবার ভোর ৫ টার মধ্যে।গার্ডার লঞ্চিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে ।
নতুন গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো করিডোরটি সম্পূর্ণ করার জন্য চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ একটি ‘মিসিং লিঙ্ক’ যুক্ত করার প্রয়োজন হয়েছিল। এই সম্পূর্ণ করিডোরটিকে কলকাতার জীবনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি কলকাতার দক্ষিণের উপশহরগুলিকে সেক্টর ৫ এবং সল্ট লেকের আইটি হাবের সাথে সংযুক্ত করে। এই রুটে মেট্রো চালু হলে আইটি পেশাজীবী এবং সাধারণ নাগরিক উভয়েই তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পাবেন এবং মিনিটের মধ্যেই সেক্টর ৫-এ পৌঁছাতে পারবেন।
প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতের নির্দেশে আটকে ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল থাকবে এবং মামলা তুলে নিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হওয়ায় এখন নিউ গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো চালুর সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য টুইট করেছেন,’মমতা ব্যানার্জী ১৫ বছরে যা করতে পারেননি, শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি সরকার তা মাত্র ১৫ দিনে করে দেখিয়েছেন।
আরভিএনএল নির্ধারিত সময়ের আগেই কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের চিংড়িঘাটা ক্রসিং সেকশনে দীর্ঘদিনের বিলম্বিত গার্ডার স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই ৩৬৬-মিটারের অসম্পূর্ণ সংযোগটি নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো করিডোরটি সম্পূর্ণ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কলকাতার দক্ষিণের উপশহরগুলিকে সেক্টর V-এর আইটি হাবের সাথে সংযুক্ত করবে।
এই প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে ছিল? কারণ মমতা ব্যানার্জী সরকার বারবার যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আরভিএনএল শুধুমাত্র পরপর দুটি সপ্তাহান্তে রাতে যান চলাচল বন্ধ রাখার অনুমতি চেয়েছিল। রাজনৈতিক বাধা শেষ হওয়ার মুহূর্তেই কাজটি দ্রুতগতিতে এগোতে থাকে।বছরের পর বছর ধরে বাংলাকে বলা হচ্ছিল যে এই বিলম্ব “প্রযুক্তিগত”। দেখা গেল, সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত সমস্যাটি ছিল স্বয়ং টিএমসি সরকার।’।
