এইদিন ওয়েবডেস্ক,শোপিয়ান,২৭ এপ্রিল : শোপিয়ানের ইমাম সাহিবে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামী (জুহাম্মদ)-এর অধিভুক্ত দারুল উলুম জামিয়া সিরাজ-উল-উলুমকে ১৯৬৭ সালের বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে একটি বেআইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করেছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন । ইউএপিএ-এর আইনের ধারা ৮(১)-এর অধীনে তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে কাশ্মীর বিভাগীয় কমিশনার, অংশুল গার্গ, একটি সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই ঘোষণাটি করেন। আদেশটি অনুসারে—নিষিদ্ধ সংগঠনটির সাথে যোগসূত্র, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণের অপব্যবহার সংক্রান্ত উদ্বেগকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতে ইসলামীর ফালাহে আম ট্রাস্টের সাথেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
এদিকে ওই ইসলামিক সংগঠনটি বেআইনি প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করায় চরম রেগে গেছেন পিউপিলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDP)-এর সভানেত্রী মেহবুবা মুফতি সাঈদ৷ তিনি এই বিষয়ে এক্স-এ লিখেছেন, ‘প্রতিদিন জম্মু ও কাশ্মীর সরকার দেশটির পরিচয় ও মর্যাদার উপর হওয়া জঘন্য আক্রমণের নীরব দর্শক এবং ভীরু সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করে। ইউএপিএ-এর অধীনে দারুল উলুম জামিয়া সিরাজ উল উলুমকে একটি বেআইনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত অংশের প্রতি একটি চরম অবিচার।এই প্রতিষ্ঠানটি ব্যয়বহুল পড়াশোনার সামর্থ্যহীন শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করেছে। এটি এমন সব স্বনামধন্য ডাক্তার ও পেশাজীবী তৈরি করেছে, যাঁরা নিষ্ঠার সাথে এই জাতির সেবা করেছেন।দেশবিরোধী কার্যকলাপের কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই এই জনহিতকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা একটি গভীর বিদ্বেষ ও অসৎ উদ্দেশ্যের পরিচায়ক।’
যদিও প্রশাসনের আদেশ অনুসারে যেটা জানা গেছে যে সংরক্ষিত নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করার পর কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, প্রতিষ্ঠানটি আপাতদৃষ্টিতে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হলেও “গুরুতর আইনি, প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মে জর্জরিত” ছিল। এই অনিয়মগুলোর মধ্যে ছিল সন্দেহজনক জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের অভাব এবং আইনগত তদারকি এড়ানোর ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।
আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে, সংগঠনটির জামায়াতে ইসলামীর (জেআই) সাথে চলমান ও গোপন যোগাযোগ ছিল। জামায়াতে ইসলামী একটি নিষিদ্ধ ও বেআইনি সংগঠন, যা ভারত সরকার ২০১৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী তারিখের বিজ্ঞপ্তি এসও ১১৪৫(ই)-এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছিল।
আদেশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানটির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন, যার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক পদে তাঁদের নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত।
কর্মকর্তারা আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক তহবিলের অপব্যবহার ও আত্মসাৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
এছাড়াও, আদেশে উদ্ধৃত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, সময়ের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানটি উগ্রপন্থার অনুকূল একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল। প্রতিবেদনগুলো অনুসারে, প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী চরমপন্থী কার্যকলাপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা কাশ্মীর.কম-এর খবর অনুযায়ী, আদেশে বলা হয়েছে,গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তের পাশাপাশি সমস্ত তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে, এটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, স্থানটি কোনো বেআইনি সংগঠনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এবিপি নিউজকে সূত্র জানিয়েছে যে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে এর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শত শত শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল এবং এখন পর্যন্ত তদন্তে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থীর দেশবিরোধী ও সন্ত্রাস-সম্পর্কিত কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।।
