এইদিন ওয়েবডেস্ক,তামিলনাড়ু,০২ জুন : চলতি বছরে মে মাসে তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে রায় দেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এখন এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার। রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেছে, তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সংক্রান্ত যে আইন বিদ্যমান রয়েছে, হাইকোর্টের দেওয়া রায় সেই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে, গত ২৭ মে উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নতির স্বার্থে ১৯৭৬ সালে জারি করা সরকারি আদেশ কার্যকর করে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। এখন সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে থালাপতির সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর পরিপন্থি। ওই আইনে বলা রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী যেসব গরু কোনও কাজ করতে বা প্রজননে অক্ষম, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে শুধু সেইসব গরু বা বাছুর জবাই করা যায়।এছাড়া, আরও বেশ কয়েকটি আইনের উল্লেখ করে শীর্ষ আদালতে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিযোগ, গরু জবাইয়ে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে।
গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, পশু জবাই শুধু অনুমোদিত কসাইখানাতেই করা যাবে। একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও বরিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের মুসলিমদের পরব ঈদুল আজহাসহ অন্য যে কোনো দিন গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত রাজ্যজুড়ে এ নির্দেশনা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারিরও আদেশ দেন। তবে তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, এ নির্দেশনার কারণে রায়ে আইনি অসংগতি তৈরি হয়েছে। তামিলনাড়ুর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ইন্দু মাক্কাল কাচ্চির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই আদেশ দেন। আবেদনে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়।।
