এইদিন ওয়েবডেস্ক,জলপাইগুড়ি,২২ মে : রাজ্যের নতুন সরকারে জমি হস্তান্তরের পর বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের করিডর বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা “চিকেনস নেক”-এ কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জরিপের কাজ শুরু হল ৷ এজন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় । কেন্দ্রীয় আধাসেনা বিএসএফ ও পুলিশবাহিনীর কড়া প্রহড়ায় জলপাইগুড়ি জেলায় কাঁটাতারের বেড়ার জন্য সীমানা নির্ধারণ করেন বিডিও অফিসের কর্মীরা । জানা গেছে,বর্তমানে ২২-২৫ কিমি সীমান্তবর্তী জমিকে জরিপ করা হবে। তারপরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মানের কাজ হবে। জমি জরিপ শেষ হলেই দ্রুত কাঁটাতার বেড়া নির্মানের কাজ সমাপ্ত করতে বিএসএফ -এর পূর্ব বহরকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও গৃহমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । দিন দুয়েক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে ২৭ কিমি জমি তুলে দেয় রাজ্য সরকার । আর জমি হাতে পেয়েই অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়ে যায় ।
প্রসঙ্গত,ভারতের মানচিত্রের একটি ক্ষুদ্র অংশ হল ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোর৷ এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিমি এবং সবচেয়ে সরু অংশে প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিমি। মুরগির গলা সদৃশ এই সঙ্কীর্ণ এলাকাটি দেশের কৌশলগত জীবনরেখা হিসেবে গণ্য করা হয়। ভূখণ্ডটি নেপাল ও বাংলাদেশের মাঝে অবস্থিত এবং কয়েকশ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভুটান ও চীন। আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও, এটিকে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
‘চিকেন নেক’ কেন গুরুত্বপূর্ণ ?
ভৌগোলিকভাবে, এই করিডোরটি ভারতের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে, যা উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্য—আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম এবং ত্রিপুরা—এবং দেশের বাকি অংশের মধ্যে একমাত্র স্থল সংযোগ হিসেবে কাজ করে।
এই করিডোর দিয়ে যাওয়া প্রধান রেলপথ ও জাতীয় মহাসড়কগুলোই এই রাজ্যগুলোতে প্রবেশের একমাত্র পথ। এই সংকীর্ণ পথে কোনো সংকট দেখা দিলে, এই আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্য মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আর বাংলাদেশে উগ্র ইসলামি শাসক ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই করিডোর-কে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্য দখল করে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইসলামি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি ।
এই ভূখন্ডটি আগে রাজ্যের গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) জাতীয় মহাসড়ক শাখার অধীনে পরিচালিত হত। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বারবার জমি হস্তান্তরের কথা বললেও কোনো এক রহস্যময় কারনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কোনো আগ্রহই প্রকাশ করেননি । যেকারণে তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল । কিন্তু ২৬ শের নির্বাচনে জিতে বিজেপি রাজ্যের শাসনক্ষমতায় এলে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই অঞ্চলের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ব্যবস্থাপনা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে ।
কেন এটি কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করা হল ?
বিজেপি-শাসিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলেছে যে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের ফলে প্রতিরক্ষা রসদ, বাণিজ্য, পর্যটন এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করার জন্য অপরিহার্য মহাসড়কগুলির দীর্ঘ-বিলম্বিত উন্নয়ন, শক্তিশালীকরণ এবং মেরামতের কাজ ত্বরান্বিত হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পথগুলির উপর কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানের ফলে ভারতীয় সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে। এই এলাকাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ইউনিটের ঘাঁটি।
উত্তর-পূর্ব সীমান্তে সরঞ্জাম, ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং সৈন্য দ্রুত মোতায়েনের জন্য এই রাস্তাগুলো সর্বদা সর্বোত্তম অবস্থায় রাখা অপরিহার্য। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ কৌশলগত প্রস্তুতি বাড়াবে এবং সেনাবাহিনীকে কোনো বাধা ছাড়াই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম করবে।।
