ভুতের অস্তিত্ব আছে কি নেই, এই চর্চা আবহমান কাল ধরে চলে আসছে । প্যারানরমাল সোসাইটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক (Paranormal) ঘটনার তদন্ত ও গবেষণা করে। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ভুতুড়ে দাবির পেছনে অন্ধবিশ্বাস দূর করে যুক্তিসঙ্গত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজা। কিন্তু তাদের আধুনিক যন্ত্রেও কখনো কখনো ভুতের গলার স্বর বা অস্তিত্ব ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয় । এমনকি গবেষণা করতে গিয়ে কারো কারোর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে । যাতে ভুতের অস্তিত্বের রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে । এমনই এক বহু চর্চিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ২০০৯ সালে । ইন্ডিয়ান প্যারানরমাল সোসাইটির (IPS) কর্ণধার গৌরব তিওয়ারির নিজের বাড়ির বাথরুমে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় । যা আজও প্রহেলিকা হয়ে আছে । এছাড়া,১৯৯০ সালে জেসন হাউস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আটলান্টিক প্যারানরমাল সোসাইটি (TAPS) এখনো অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার তদন্ত ও গবেষণা করে যাচ্ছে ।
যাই হোক, জনপ্রিয় জাপানি হরর কনটেন্ট ক্রিয়েটর কোওয়াইনোৎসুক্কো (@kowainotsukko) হাড়হিম করা একটা ভুতের কাহিনী বর্ণনা করেছেন । সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’ (পূর্বে টুইটার)-এ তার সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে মুর্তিমান ভুতের ছবিও শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন,আপনি কি জানেন যে, ঠিক যেমন মানুষ ভৌতিক গল্পে ভূতের চরিত্রে অভিনয় করে, তেমনি ভূতেরাও মাঝে মাঝে মানুষের ভূমিকায় অভিনয় করে? কিন্তু মানুষের মতোই, ভূতেদের মধ্যে খুব অল্প শতাংশই ভালো অভিনেতা হয়।
এই কথাটা আমি আমার এক প্রাক্তন সহকর্মী, মিঃ সুগিনোর কাছ থেকে শুনেছি (এটি একটি ছদ্মনাম; তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশের কোঠায়)।পঁচিশের মাঝামাঝি বয়সে তিনি জীবনে আটকে পড়েছেন ভেবে কিছু একটা করার জন্য রাতে পাহাড়ে গিয়েছিলেন।
রাতে পাহাড়গুলো ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে, কিছুই দেখা যায় না, আর সেখানকার অদ্ভুত গন্ধ, পশুপাখির ডাক এবং বাতাসে গাছের পাতার মর্মর ধ্বনির কারণে এক অদ্ভুত, ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে।অবশ্যই, আশেপাশে কোনো মানুষ থাকে না।
সেই পরিস্থিতিতে, পাহাড়ের গভীরে, হঠাৎ ঝোপের ভেতর থেকে খসখসে শব্দ করে কিছু একটা বেরিয়ে এল। ওটা ছিল সাদা হোটেল কর্মচারীর পোশাক পরা এবং একটি রাবারের মুখোশ পরা “কিছু একটা”… মিঃ সুগিনো সেই “কিছু একটা”-কে অবর্ণনীয় বলে বর্ণনা করেছেন। অন্তত, তিনি মনে করেননি যে ওটা মানুষ ছিল।
সুগিনো যখন ভয়ে কাঠ হয়ে গেল, প্রাণীটা টলমল পায়ে সামনে এগিয়ে এল, যেন প্রথমবারের মতো দু’পায়ে হাঁটছে, আর ধীরে ধীরে তার দিকে হাত বাড়াল।সেটা একটা অদ্ভুত সুরে বলল, “আমি কি তোমার ঘরে কিছু মালপত্র আর মোচি নিয়ে আসব?… ঠিক আছে?”সেই মুহূর্তে, সারা শরীরে কাঁপুনি বয়ে যায় সুগিনোর৷ আর তাড়াতাড়ি ঘুরে পাহাড় থেকে নেমে গেল…
কয়েক বছর পর, যখন আমি গল্পটা শুনলাম, সুগিনো তখন বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা।সুগিনো বলেন, “আমি খুব খুশি যে সেদিন পাহাড়ে মরিনি” । এজন্য সে সেই “অমানুষ সত্তাটাকে” ধন্যবাদ জানান । কিন্তু এখনও, যখনই সে সপরিবারে কোথাও বেড়াতে যায়, সেই “সত্তাটা” তার মাথায় আসে, তাই সে ভয়ে হোটেল বা সরাইখানায় রাত কাটানোর মতো কোনো ভ্রমণে যেতে চায় না ।
তিনি লিখেছেন,এই গল্পটা একটা ভূতের মানুষের মতো আচরণ করার চেষ্টার গল্পের মত নয় কি ? প্রসঙ্গত, এটা একটা রহস্য যে ওই ‘কিছু একটা’ কেন হোটেলের কর্মচারীর মতো আচরণ করার চেষ্টা করছিল, বা কেনই বা মানুষের মতো আচরণ করার চেষ্টা করছিল ।।
