এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৮ আগস্ট : ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সাংসদ মহুয়া মৈত্র সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে একটি বড় ধাক্কা খেয়েছেন। একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অনলাইনে পুলিশের সামনে হাজির হওয়ার জন্য তাঁর আবেদনটি শীর্ষ আদালত খারিজ করে দিয়েছে। মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত মহুয়াকে তীব্রভাবে তিরস্কার করে বলেছে যে, তিনি যখন রাজনীতি করেছেন তখন তাঁর ডিমকেও ভয় পাওয়া উচিত নয় ।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও শীল নাগুর সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ মহুয়া মৈত্রর এই উদ্বেগ স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়েছে যে, থানায় গেলে তাঁকে ডিম ছোড়া হবে। বিচারপতি দত্ত প্রশ্ন করেন, “আপনি কি একজন সাংসদ? রাজনীতিতে এসে ডিমকে ভয় পাচ্ছেন? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিজেদের বুকে গুলি করেছিলেন। এই ধরনের আবেদন আদালতে আসা উচিত নয়।”
ঘটনাটি চলতি বছরের জুন মাসে ঘটেছিল। এক বিজেপি নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে মৈত্রর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা দুটি ভিডিওতে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। কৃষ্ণনগরের আদালতের বাইরে বিজেপি সমর্থকরা মহুয়ার দিকে টমেটো ও ডিম ছুঁড়ে মারলে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া মৈত্রর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতকে অনুরোধ করেন যেন মৈত্রকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
আদালত তখন বলে, ভার্চুয়াল কেন? আপনি কি সাংসদ? এই প্রশ্ন করা হলে আইনজীবী গণপিটুনির আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আইন অনুযায়ী আমার অধিকার আছে। তিনি বলেন,পুলিশের নোটিশ অনুযায়ী আমার মক্কেলকে নিজের নির্বাচনী এলাকার থানায় হাজিরা দিতে হবে। শেষবার যখন সেখানে গিয়েছিলেন,তাকে ডিম ছোড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয়বার সত্যি সত্যি তার দিকে ডিম ছোড়া হয় । সুপ্রিম কোর্ট মহুয়া মৈত্রর আইনজীবীর যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই তাদের তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।।
