যখন থেকে কেন্দ্র সরকার ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (সংশোধনী) বিল ২০২৬ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন থেকেই ভারতের খ্রিস্টান মিশনারী, কংগ্রেস ও আমেরিকার তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে । কংগ্রেস নেতা শশি থারুর এমনকি এই বিলের বিরোধিতায় একটা বড়সড় প্রতিবেদন লিখে ফেলেছেন একটি ইংরাজি কাগজে । দাবি করা হচ্ছে যে,NEET প্রশ্ন ফাঁস মামলায় দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার নয়,বরঞ্চ সরকারকে চাপে ফেলে এফসিআরএ-এ বিল আনা আটকানো। কিন্তু এই বিলের কেন এত বিরোধিতা করছে খ্রিস্টান ও খ্রিস্টান সংশ্লিষ্ট দল বা দেশগুলি ? এবারে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা চাঞ্চল্যকর দাবি করা হচ্ছে । বলা হচ্ছে যে,কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দাঙ্গা ও নৈরাজ্যের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন কেরালার জর্জ মুথোলিল নামের এক জেসুইট যাজক। যার মূল উদ্দেশ্য হল এফসিআরএ-এ বিল আটকানো । এই বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইংরাজিতে লেখা প্রতিবেদনটির অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হল :
ভ্যাটিকানের যোগসূত্র: জর্জ মুথোলিল এবং ভারতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র….গোপন রহস্য ফাঁস! এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দাঙ্গা ও নৈরাজ্যের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী হলেন কেরালার জর্জ মুথোলিল নামের এক জেসুইট যাজক। ভারতের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলিতে স্নাতক কোর্সে ভর্তির জন্য NEET (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেয়েও, কট্টর খ্রিস্টান মৌলবাদী মুথোলিলকে যা বেশি উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট (সংশোধনী) বিল ২০২৬-এর বিরোধিতা, যা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং ধর্মপ্রচারকদের দ্বারা প্রাপ্ত সব ধরনের অনুদানের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এই বিষয়টি সামনে এনেছেন কালাডির শ্রী শঙ্কর সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক কে এস রাধাকৃষ্ণন, যিনি বেশ কিছুদিন ধরে ভিকার, বিশপ, আর্চবিশপ এবং কার্ডিনালদের কার্যপ্রণালী পর্যবেক্ষণ করছেন। “জর্জ মুথোলিল সনাতন ধর্ম, নরেন্দ্র মোদী, আরএসএস এবং ভারত রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর ঘৃণার জন্য পরিচিত।কিন্তু সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি এখন যা করছেন তা সবচেয়ে জঘন্য কাজ। তিনি ভারতকে চিরতরে শেষ করে দিতে এবং ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছেন,” কেরালার শীর্ষস্থানীয় সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল ‘ইন্ডিয়া লাইভ’-এর একটি পডকাস্টে অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন একথা বলেন।
অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন বলেন, চার্চের অন্তর্গত যাজক ও সন্ন্যাসিনীদের সম্প্রদায় এফসিআরএ সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অগ্রভাগে রয়েছে। যারা এখনও মুথোলিলের কথা শোনেননি, তাদের জন্য বলছি, এই জেসুইট যাজক ভ্যাটিকানের একজন গুপ্তচর এবং তিনি একজন ধর্মপ্রচারক ও মাওবাদী হিসেবে দিনরাত কাজ করে চলেছেন, বলেছেন কংগ্রেস নেতা থেকে বিজেপি নেতা হওয়া অধ্যাপক রাধাকৃষ্ণন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুথোলিলকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয় এবং তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন। “মুথোলিল, যিনি তিরুবনন্তপুরম লয়োলা কলেজের পরিচালক/অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি কোনো জনসমক্ষে উপস্থিত হন না। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আয়োজিত নিট-বিরোধী আন্দোলনই হলো ঘোলা জলে মাছ ধরার সঠিক সুযোগ,” বলেছেন ওই অধ্যাপক।।
