এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৪ জুলাই : শুক্রবার উত্তরাখণ্ডের এক পুলিশ কনস্টেবল নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে নিজের পদ থেকে “পদত্যাগ” করে জনগণকে অবাক করে দিয়েছেন। কিন্তু আসল ঘটনা হলো, ওই কনস্টেবলকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে উত্তরাখণ্ড পুলিশ জানিয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন রেঞ্জের আইজি নিবেদিতা কুকরেতি বলেন, “বর্তমানে শের সিং নামে এক কনস্টেবল ছাত্র বিক্ষোভে উসকানি দিয়ে একটি ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন, যা ভাইরাল হচ্ছে। এই কনস্টেবলের বিষয়ে উল্লেখ্য যে, তিনি ২৮ জুন, ২০২৬ থেকে পিথোরাগড় জেলায় অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়ে পিথোরাগড়ের এসপি তাকে একটি নোটিশ জারি করেন এবং কোনো জবাব না পাওয়ায় ২০ জুলাই, ২০২৬-এ তাকে সাসপেন্ড করা হয়। এই কনস্টেবলের পূর্বের অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে। তিনি এবং তার আরেক সহকর্মী কুখ্যাত গ্যাংস্টার প্রবীণ বাল্মীকির সাথে যোগসাজশে সংগঠিত অপরাধে জড়িত ছিলেন। তারা নিরীহ মানুষকে ভয় দেখাত এবং তাদের জমি দখল করত। তাকে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫-এ গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। তিনি বেশ কয়েক মাস জেলে কাটিয়েছেন এবং বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন।”
প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে হরিদ্বারের গঙ্গানাহার থানায় ২৮ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে এসটিএফ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছিল। তিনি জানান যে, তিনি যে থানায় কর্মরত ছিলেন সেখান থেকে অনুমতি ছাড়াই ছুটিতে গিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটেও তার বিরুদ্ধে বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছিল এবং বর্তমানে ভিত্তিহীন মন্তব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে নিজের ব্যাজটি খুলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের হাতে তুলে দিয়ে শের সিং বলেন, “এটা ভগত সিংয়ের দেশ। বোমা বা পিস্তল দিয়ে বিপ্লব হয় না। বিপ্লব হয় ভাবনার মাধ্যমে। ভাবনা কখনো মরে না।” তিনি ২০২১ সালে উত্তরাখণ্ডে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথিত খবরের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন যে ‘পাটোয়ারী’ পদের প্রশ্নপত্র মুদি দোকানেও পাওয়া গিয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর জবাবে ইন্সপেক্টর জেনারেল নিবেদিতা কুকরেতি বলেন যে, পিথোরাগড়ে কর্মরত ওই কনস্টেবল ২৮ জুন থেকে ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকায় ২০ জুলাই তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। পিথোরাগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি নোটিশ জারি করেছিলেন। তিনি কোনো জবাব না দেওয়ায় তাকে সাসপেন্ড করা হয়, তিনি বলেন।।
